Views: 1
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানসহ বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সার্বিক অবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই সাক্ষাতের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশিরা কী অবস্থায় আছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিমান চলাচল ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান যে, ইরানে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক অনেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দেখভালের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই পরিস্থিতির সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং যাত্রীদের সকল প্রকার সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং বিমান প্রতিমন্ত্রী আজ সকাল থেকেই বিমানবন্দরে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তা ও বিকল্প ব্যবস্থার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রয়েছেন বলে বৈঠকে জানানো হয়।
আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এসে দিনের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ বিশেষ করে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেন। বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান যে, প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার অভিযান ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ দক্ষ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করবে।
দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংকটের এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে যেন কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং বহির্বিশ্বে অবস্থানরত দেশের নাগরিকরা যেন কোনোভাবে অভিভাবকহীন বোধ না করেন, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সজাগ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই কর্মব্যস্ত দিন এবং গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রবাসীদের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকির ফলে বিমানবন্দর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে ব্যাপক গতিশীলতা ফিরে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গ্রহণ—উভয় ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী নির্দেশনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারের এই সক্রিয় অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।