Views: 1

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী প্রকল্প শ্রীশ্রী হরি মন্দির পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শ্রীশ্রী হরি বিগ্রহের ২১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ৫৩তম অষ্টপ্রহর ব্যাপী মহানামযজ্ঞ ২০২৬। রবিবার (১ মার্চ) হতে শুরু হওয়া এই দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালাকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আধ্যাত্মিক চেতনা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনে ছিল বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি, যা স্থানীয় জনপদে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি করেছে।

উৎসবের প্রথম দিনে দুপুর ২টা হতে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ঝুলন দত্তের পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক আশুতোষ মল্লিক এবং অনন্য পালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংগীতাসর ভক্তদের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহীদ উল্যাহ। তিনি তার বক্তব্যে এই মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন যে, এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের বার্ষিক মহোৎসবে সকল ধর্মের মানুষের মিলন ঘটে, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কেপিএম লিমিটেডের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী স্বপন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভা উদ্বোধন করেন ডা. বি কে দেওয়ানজী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য দয়াল দাশ, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডাঃ রহমত উল্যাহসহ কেপিএম লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন ও জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া সভায় কেপিএম সিবিএ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলংকৃত করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে গীতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে সনদপত্র ও সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করেন উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। মন্দির পরিচালনা কমিটির নির্বাহী সভাপতি রতন কান্তি মল্লিক এবং সাধারণ সম্পাদক রূপক মল্লিক রাতুলের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পর্বটি ছিল উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। দিনের শেষ ভাগে রাত ৮টায় অত্যন্ত ভক্তিভরে অনুষ্ঠিত হয় অধিবাস কীর্তন। হাটহাজারী পূর্ব শিকারপুর শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মন্দিরের অধ্যক্ষ ১০৮ স্বরূপ দাস বাবাজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই কীর্তনের মধ্য দিয়ে উৎসবের ধর্মীয় গাম্ভীর্য পূর্ণতা পায়। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন সোমবারের মহানামযজ্ঞ ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলীর মাধ্যমে সমাপ্ত হবে।

কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনায় আয়োজিত এই মহানামযজ্ঞ কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি পাহাড়ের মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক। সকল স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই উৎসবকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।