Views: 1
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানে চলমান হামলার ঘটনায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। আজ রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বর্তমান অবস্থা ও তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে শত্রুতা পরিহার করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, এই ধরণের সামরিক সংঘাত ও শত্রুতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা কেবল ওই অঞ্চলের শান্তিকেই বিঘ্নিত করবে না, বরং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের কল্যাণকেও চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ঢাকা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয় যে, যেকোনো মতপার্থক্য নিরসনের একমাত্র পথ হলো সংলাপ এবং কূটনীতি। তাই সকল পক্ষকে সামরিক শক্তির ব্যবহার বাদ দিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ মনে করে, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কোনো দেশের সীমানায় আঘাত হানা বিশ্বশান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। এই দেশগুলোর আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও বাংলাদেশ আহ্বান জানিয়েছে যেন তারা এই সংঘাত নিরসনে এবং দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ সরকার আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং খুব দ্রুত এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে পুনরায় শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বাংলাদেশ গভীরভাবে আশাবাদী। বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তারা যেন স্থানীয় বাংলাদেশি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। সরকার নিয়মিতভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামেও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে নিজেদের জোরালো অবস্থান বজায় রাখবে। শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সবসময়ই যুদ্ধের বিপক্ষে এবং অর্থবহ কূটনীতির পক্ষে অটল থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
ইরানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ সরকারের এই কূটনৈতিক অবস্থান বিশ্বশান্তি রক্ষায় তাদের প্রতিশ্রুতিকেই পুনরায় প্রমাণ করে। প্রবাসীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও স্থিতিশীলতার জন্য বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে ঢাকা।