Views: 1
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ১৩ দিনের মাথায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, অপরাধ দমনে প্রশাসন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, সম্প্রতি নরসিংদীতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রায় সকল অপরাধীকেই ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাসায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় যারা জড়িত, সেই সব শীর্ষ সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সীমান্তের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা চালুর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে এই ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে বলে আশ্বস্ত করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সকৃত যেসব অস্ত্র এখনও জমা হয়নি, সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কঠোর আইনি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার এবং লাইসেন্সের বৈধতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। এছাড়া সেনাবাহিনী কবে নাগাদ ব্যারাকে ফিরে যাবে—এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, এটি একটি নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জননিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই সেনাবাহিনী প্রত্যাহার বা ব্যারাকে ফেরার সময় নির্ধারণ করা হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি পুনব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, নতুন সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। অপরাধী শনাক্তকরণ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের এই তৎপরতা জনমনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।