Views: 1

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও বিধ্বংসী মোড় নিয়েছে চলমান সংঘাত। ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক শক্তিশালী বিমান হামলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদোল রহিম মুসাভি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ, ২০২৬) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই চাঞ্চল্যকর ও শোকাবহ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ জেনারেল এবং নীতিনির্ধারক এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তেহরান থেকে বিশ্বখ্যাত বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শনিবার পরিচালিত এই সুনির্দিষ্ট হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি সামরিক দপ্তর, যেখানে দেশটির শীর্ষ কর্তারা জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দেওয়া তথ্যে জানানো হয়েছে যে, নিহতদের তালিকায় আবদোল রহিম মুসাভির নামের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী নাম যুক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডসের (IRGC) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান আলি শামখানি। টিভি প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠক’ পরিচালনা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই হামলাকারীরা আধুনিক ও নির্ভুল প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বৈঠকস্থলটি ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষ কাঠামো প্রায় তছনছ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

তেহরানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ব্যাপ্তি আরও বড় হতে পারে। টেলিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিহত অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের নাম ও পরিচয় পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে। হামলার পর থেকে তেহরানসহ ইরানের বড় শহরগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যেও এমন সফল হামলা ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হামলার পর থেকে ইরান জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পাল্টা প্রতিশোধের আশঙ্কায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন চরম উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়ার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক চলাকালীন এই ধরণের নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, হামলাকারীদের কাছে ইরানের অতি গোপনীয় নথিপত্র ও অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য ছিল। সেনাপ্রধান এবং রেভল্যুশনারি গার্ডস প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মৃত্যু ইরানকে এক চরম নেতৃত্ব সংকটে ফেলতে পারে। বর্তমানে দেশটির সামরিক কমান্ড সেন্টারে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নতুন করে উচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাসী এখন অপেক্ষা করছে ইরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে, কারণ শীর্ষ জেনারেলদের এই মৃত্যু পুরো অঞ্চলের মানচিত্র ও যুদ্ধের গতি প্রকৃতি বদলে দিতে পারে।

ইরানের সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে এই আক্রমণকে। সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ শীর্ষ সারির চার নেতার প্রস্থান ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ডে বড় আঘাত হেনেছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতদূর গড়ায়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির প্রধান উদ্বেগের বিষয়।