Views: 1
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক প্রলয়ঙ্কারী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করেছে। এই ভয়াবহ হামলায় খামেনির পাশাপাশি দেশটির বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ঘটনার পরপরই পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নজিরবিহীন উত্তেজনা ও যুদ্ধের দামামা ছড়িয়ে পড়েছে। খামেনি নিহত হওয়ার সংবাদ বিশ্বজুড়ে এক বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যার ফলে পাল্টে যেতে শুরু করেছে আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ।
হামলার ভয়াবহতা কেবল তেহরানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৪টিতেই ব্যাপক বিমান ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিধ্বংসী সিরিজ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে, যেখানে অনেক শিক্ষার্থী হতাহত হওয়ার মর্মস্পর্শী খবর পাওয়া যাচ্ছে। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে সামরিক স্থাপনা—সবই এখন এই ভয়াবহ যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানজুড়ে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানো মানুষের হাহাকার বিরাজ করছে।
তবে সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ইরান কঠোর পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) একাধিক দফায় ইসরায়েলের ভেতরে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেল আবিবের বেশ কিছু আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইরান দাবি করেছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মোট ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। এমনকি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই ও দোহাতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাই ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলকে স্থবির করে দিয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি জানিয়েছেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষদ রাষ্ট্রীয় সকল দায়িত্ব পালন করবে। ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হলে একটি অস্থায়ী পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এই পরিষদে থাকছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম প্রতিনিধি। অন্যদিকে খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাক তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং পুরো বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যক্ষ সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্ব শান্তির জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে প