Views: 1

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর দাদি ও নাতনি হত্যার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শরিফুল ইসলামকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ এই লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন বাসের হেলপার। তিনি সম্পর্কে নিহত সুফিয়া বেগমের আপন ভাগ্নে।

পুলিশের তদন্ত ও শরিফুলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে। নিহত সুফিয়া বেগম (৭০) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫) ওই বাড়িতে পুরুষ সদস্য ছাড়াই বসবাস করতেন। জামিলার বাবা জয়নাল আবেদীন ঢাকায় কর্মরত থাকায় তারা দুজনই বাড়িতে থাকতেন। শরিফুল মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং তার খালার নাতনি দশম শ্রেণির ছাত্রী জামিলার প্রতি তার কুনজর ছিল। ঘটনার রাতে শরিফুল বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলে সুফিয়া বেগম তাকে দেখে ফেলেন এবং তাকে তৎক্ষণাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শরিফুল পাশে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে খালার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে সুফিয়া বেগম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দাদিকে হত্যার পর ঘাতক শরিফুল ঘরের ভেতরে গিয়ে জামিলাকে জাপটে ধরেন। জামিলা চিৎকার করলে শরিফুল তাকে বাঁশের খাঁটিয়া ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অজ্ঞান করে ফেলেন। এরপর রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় জামিলাকে টেনেহেঁচড়ে বাড়ির পেছনে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা পুকুরে পড়ে যান। সেখান থেকে জামিলাকে তুলে পাশের একটি গম ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার পথে জামিলার জ্ঞান ফিরে আসে এবং সে পুনরায় চিৎকার শুরু করলে শরিফুল আবারও হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর বিবস্ত্র অবস্থায় জামিলাকে গম ক্ষেতে ধর্ষণ করার পর সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান শরিফুল। পরদিন সকালে বাড়ির ভেতর থেকে দাদির এবং গম ক্ষেত থেকে নাতনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা পুলিশের একাধিক টিম ছায়া তদন্ত শুরু করার পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শরিফুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। শরিফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি, বাঁশের খাঁটিয়া, কাঠের বাটাম এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। এর আগে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক রাব্বি মন্ডলকে নির্দোষ পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত জামিলা আক্তার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং একজন হাফেজা ছিল। এই ঘটনায় নিহতের ফুফু মর্জিনা খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড পুরো জেলায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় ঘাতক গ্রেপ্তার হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করলেও একটি মেধাবী ছাত্রীর এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এখন মুখে মুখে।