Views: 2

পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্য ছড়িয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে বিশ্ব টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, আর এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বল্পমূল্যে মানসম্মত পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন বাড়াতে হবে। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর পলিথিন পরিহার করে সাশ্রয়ী মূল্যের পাটপণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিত্যনতুন ও নান্দনিক পণ্য উদ্ভাবনের পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পাটখাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান প্রশাসনের হাত ধরে পাটখাতে সোনালী দিন ফিরবে এবং বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে রুগ্ন ও বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া উচ্চফলনশীল পাটের বীজ উদ্ভাবন এবং গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বড় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় ১১ লাখেরও বেশি কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এটি পাটের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের ওপর জোর দেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে পর্যায়ক্রমে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে। এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র এবং সহজ শর্তে বিমার সুবিধা পাবেন। এমনকি এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সরাসরি সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি এবং আবহাওয়ার তথ্য জানতে পারবেন। রাষ্ট্রপতি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, এর আগে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলেও ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতীয় পাট দিবস ২০২৬-এর এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ভার্চুয়ালি শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে নয়দিনব্যাপী ‘পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা’র উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে পাটখাতে সামগ্রিক উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সচিব বিলকিস জাহান রিমি এবং পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসিরসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। রাষ্ট্রপ্রধান পরিশেষে সকল অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাটের সমৃদ্ধি মানেই জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন।

পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা অপরিসীম। রাষ্ট্রপতির এই দিকনির্দেশনা এবং সরকারের কৃষকবান্ধব উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পাটখাত আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।