Views: 2

জাতীয় জীবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে এক নজিরবিহীন ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের অপচয় রোধে তিনি কেবল মৌখিক নির্দেশনাই দেননি, বরং নিজের দফতর থেকে এই কৃচ্ছ্রসাধন কার্যক্রমের সূচনা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দফতরে প্রবেশ করার পরপরই নিজ কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করেন। বিশেষজ্ঞ মতে, এসির এই নির্দিষ্ট মাত্রা বজায় রাখলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্য হারে সাশ্রয় হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ সচিবালয়ের ১ নং ভবনে অবস্থিত তার পুরো দফতরে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের কক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করার সাথে সাথেই সেখানকার অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে আনতে নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ত্বরিত পদক্ষেপের পর তার দফতরের অধীনে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ অন্যান্য সকল শাখা ও কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেকের বেশি লাইট বন্ধ করা হয় এবং এসির ব্যবহার সীমিত করা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তার কঠোর অবস্থানের বার্তা স্পষ্ট করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে অবস্থিত সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল এবং বিপণী বিতানসহ সকল প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হতে দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন, কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিনের বেলা অফিস বা ঘরবাড়ির জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর সচিবালয়ের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার তৎপরতা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, তখন দেশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি অনুসরণ করলে সরকারি ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যুতের অপচয় রোধে সরকারের এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বার্তা পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় সম্পদ সাশ্রয়ে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে। দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যুতের এই সাশ্রয়ী ব্যবহার জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে।