Views: 2

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননার জন্য এবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সর্বোচ্চ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও এ বছর মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের মধ্যে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। চিকিৎসাবিদ্যায় অনন্য সেবার জন্য মনোনীত হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সাহিত্যে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন খ্যাতিমান ড. আশরাফ সিদ্দিকী। সংস্কৃতি অঙ্গনে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এই পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশবরেণ্য টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জোবেরা রহমান লিনু।

সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। পল্লী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকার জন্য মনোনীত হয়েছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। জনপ্রশাসনে বিশেষ অবদানের জন্য কাজী ফজলুর রহমানকে (মরণোত্তর) এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী পিএইচডি, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। প্রতি বছর ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার এই পদক প্রদান করে থাকে।

স্বাধীনতা পুরস্কার একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সর্বোচ্চ মাধ্যম। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের তালিকায় বেগম খালেদা জিয়াসহ গুণী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে তাঁদের এই অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।