Views: 0
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ ও অগণিত প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। এই অর্জনকে কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন বিলিয়ে দিবো, কিন্তু চব্বিশের বিপ্লবকে হারিয়ে যেতে দেবো না। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে খেলাফত মজলিশ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমানের এই স্বাধীন পরিবেশ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন—সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো ছাত্র-জনতার সেই রক্তঝরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান।
বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান চব্বিশের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, যে চব্বিশ মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে, যেখানে অসংখ্য অকুতোভয় যোদ্ধা জীবন দিয়ে আমাদের ঘাড়ের ওপর তাদের পবিত্র লাশ রেখে গেছেন, সেই রক্তের আমানত আমাদের রক্ষা করতে হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, চব্বিশ না থাকলে আজকের এই ইফতার মাহফিল আয়োজন করা সম্ভব হতো না। এমনকি যমুনা (প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন), বর্তমান ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট কিংবা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য নির্বাচনের যে আলোচনা আমরা করছি, তার কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকতো না। তাই রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থিতিশীলতার জন্য চব্বিশের স্পিরিট ধরে রাখা অপরিহার্য।
গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ আজ একটি নতুন পথের দিশা পেয়েছে। এখানে অন্যায় করে এখন আর কেউ পার পাবে না। বাংলাদেশে অতীতে যা হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। যারা জনগণের ওপর জুলুম করেছে এবং দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি মনে করেন, চব্বিশের বিপ্লব কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক পরিবর্তনের সূচনা। তাই প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তি ও সাধারণ নাগরিককে এই পরিবর্তনের পাহারাদার হিসেবে কাজ করতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদ সৃষ্টি করে চব্বিশের অর্জনকে নসাৎ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি খেলাফত মজলিশসহ সমমনা দলগুলোকে দেশ গঠনে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। ইফতার মাহফিলে খেলাফত মজলিশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে তিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং চব্বিশের বিপ্লবের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। জামায়াত আমিরের এই দৃঢ় অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, চব্বিশের চেতনাকে ধারণ করেই আগামীর গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।