Views: 4
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কর্মশালার শেষ দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে সংসদীয় কার্যক্রমে যেসব নেতিবাচক সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে, তা মানুষের মন থেকে মুছে দিয়ে একটি আদর্শ ও কার্যকর সংসদ উপহার দেওয়া হবে। জাতি এমন একটি সংসদই প্রত্যাশা করেছিল এবং আগামী অধিবেশন দেখে জনগণ আশ্বস্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদীয় গণতন্ত্রের উৎকর্ষ সাধনে দলীয় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই কর্মশালায় সংসদের রুলস অব প্রসিডিউর, পার্লামেন্টারি প্র্যাকটিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সংসদের দীর্ঘদিনের রীতিনীতি, রেওয়াজ ও সাংবিধানিক পদ্ধতি নিয়ে অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা নবীনদের ধারণা দিয়েছেন। বিশেষ করে উন্নত ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে যেভাবে সংসদ পরিচালিত হয়, সেই আদর্শগুলোকে বাংলাদেশে ধারণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমবার নির্বাচিত বিএনপির ১৪৬ জন সংসদ সদস্যের জন্য এই আয়োজনকে একটি ‘নতুন যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নবীন সদস্যদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে এসেছেন, তারা সতেজ এবং স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর সতেজ সংস্কৃতি শেখে, ঠিক তেমনিভাবে এই নতুন এমপিদেরও কোনো নেতিবাচক সংস্পর্শ ছাড়াই সঠিক সংসদীয় শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মাধ্যমে সংসদে গঠনমূলক বিতর্ক এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিল পাসের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে সরকার মনে করে। জনপ্রত্যাশা পূরণই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেছেন। অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই যাতে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীরা সংসদীয় বিধি-বিধান ও আচরণের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, সেজন্যই তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই বিশেষ কর্মশালার আয়োজন। প্রশিক্ষণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যরা নবীনদের সংসদের কাস্টমস ও কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন উদ্যোগ সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী এবং জবাবদিহিতামূলক করবে।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে কার্যকর সংসদের বিকল্প নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এই সাহসী উচ্চারণ এবং নবীন এমপিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ১২ মার্চের অধিবেশনে এই প্রশিক্ষণের ইতিবাচক প্রতিফলন দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো দেশ।