Views: 4
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পূর্ব বিরোধের জেরে এক কৃষকের কষ্টার্জিত পেঁপে বাগান ও সবজি ক্ষেত তছনছ করার এক ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে বাগানের অসংখ্য গাছ কেটে এবং চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সিংগাইর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিংগাইর পৌর এলাকার কাংশা গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কাংশা গ্রামের বাসিন্দা মো. সোলাইমান মুন্সি দীর্ঘ দিন ধরে তার বসতবাড়ির পাশে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁপে ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী কৃষকের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা আলোক, মালেক ও ইব্রাহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের সাথে সোলাইমান মুন্সির জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। গত ৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে সোলাইমান মুন্সির কৃষি জমিতে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায়। অভিযোগে বলা হয়, সেখানে থাকা প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের পরিপক্ক পেঁপে গাছ তারা উপড়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে জমিতে রোপণ করা প্রায় ২ হাজার টাকা মূল্যের পেঁয়াজের চারাও নষ্ট করে ফেলা হয়। শুধু তাই নয়, প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে থাকা করলার গাছগুলো গোড়া থেকে কেটে সাবাড় করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই হামলায় কৃষকের প্রায় ১৫ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৫ মার্চ সকালে সোলাইমান মুন্সির ছেলে রাশেদুল হক রানা এবং তাদের পারিবারিক শ্রমিক আমিনুর ঘটনাস্থলে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানাতে চাইলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা রানাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে তার ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা রানাকে কিল-ঘুষি ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে গুরুতর আহত করার চেষ্টা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কাঠের বাটাম দিয়ে রানাকে আঘাত করেন এবং অন্য একজন ধারালো কাচি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। এসময় সাথে থাকা শ্রমিক আমিনুর সাহসিকতার সাথে বাধা দিলে রানা প্রাণে রক্ষা পান। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এই ঘটনায় কৃষক সোলাইমান মুন্সি বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সিংগাইর থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে আলোকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে জানান যে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এদিকে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একজন প্রান্তিক কৃষকের এমন বিশাল আর্থিক ক্ষতি ও শারীরিক হামলার ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
উপসংহার কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে কৃষকের ফসল রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সিংগাইরের এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ন্যায়বিচার প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরণের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড কৃষি খাতের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।