Views: 4
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত রবিবার (৮ মার্চ) রাত ১০টার দিকে লামা পৌরসভার অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা হিসেবে পরিচিত মাছ বাজার সংলগ্ন একটি মুদি দোকানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১০৮ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. জহিরুল ইসলাম (৩৮) নামের এক অসাধু ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। মুদি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকের কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লামা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাকিল আহমেদ ও তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, লামা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাছ বাজার এলাকায় পাকা সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি মুদি দোকানের ওপরের তলায় মাদকের বেচাকেনা চলছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওই ভবনে হানা দেয় এবং “জহির স্টোর” নামক মুদি দোকানের দ্বিতীয় তলায় তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাঁর হেফাজত থেকে ১০৮ পিস লাল রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত জহিরুল ইসলাম লামা পৌরসভার সাবেক বিলছড়ি এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আরব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লামা মাছ বাজারের সামনে নিজের মুদি দোকান পরিচালনা করার আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশলে এই মাদক নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জনবহুল এই মাছ বাজার এলাকায় মুদি দোকানের আড়ালে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছিল। পুলিশের এই ত্বরিত পদক্ষেপের ফলে সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তাঁরা মাদক নির্মূলে এমন অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন।
লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত ১০৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকার মাধ্যমে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আটক জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, পাহাড়ি এই জনপদকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
মাদক সমাজ ও তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লামা পুলিশের এই সফল অভিযানটি মাদক কারবারিদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে। জনস্বার্থে পুলিশের এমন বলিষ্ঠ ভূমিকা মাদক দমনে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।