Views: 5
চার দফা যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের প্রেক্ষিতে গাজীপুরে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চলমান অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। গত রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার সংলগ্ন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ইতিবাচক সাড়ায় আন্দোলনকারীরা আপাতত কর্মস্থলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, বিগত সরকারের আমলে তারা চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেকের চাকরি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তারা পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। তবে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত নয় মাস ধরে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা প্রদানে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের মোট ৯৮৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী এই আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করে অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন শাখার সেকশন অফিসার মিয়াজ উদ্দিন আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দ্রুত পদোন্নতি প্রদান করা। এছাড়া বর্তমান বেতন কাঠামোর সাথে সংগতি রেখে বেতন সমন্বয় করা, আদালতের রায়ের সাথে সাংঘর্ষিক ও বৈষম্যমূলক সকল বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে বাতিল করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তিমূলক বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
উপাচার্যের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনার পর আন্দোলনকারীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার অঙ্গীকার করেছে। চাকরি রক্ষা কমিটির মহাসচিব মিয়া হোসেন রানা ও কর্মকর্তা মিয়াজ উদ্দিন জানান, উপাচার্য মহোদয় সবকটি দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসনের এই সদিচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে তারা কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হলে তারা আবারও বৃহত্তর এবং আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই আন্দোলন মূলত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ। উপাচার্যের আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়নই পারে ক্যাম্পাসে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে।