Views: 4

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বাগেরহাটের পৈতৃক বাড়িতে চুরির যে খবরটি সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। আজ বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাছান চৌধুরী এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে এই বিভ্রান্তি নিরসন করেন। তিনি জানান, আইজিপির বাসভবনের ভেতরে কোনো প্রকার চুরির ঘটনা ঘটেনি এবং প্রচারিত সংবাদটি যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী জানান যে, গত ১৬ মার্চ সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাগেরহাট এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আইজিপির বাসভবন সংলগ্ন সার্ভিস লাইনের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে রাস্তার দিকের বাইরের দেয়াল সংলগ্ন মাটিতে পড়ে যায়। পরবর্তীতে রাস্তার পাশ থেকে সেই ছিঁড়ে পড়া তারগুলো কিছু অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সরিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই মূলত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে যে আইজিপির বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে বাসভবনের অভ্যন্তরে কোনো অনুপ্রবেশ বা মালামাল চুরির মতো কোনো ঘটনা সেখানে সংঘটিত হয়নি।

বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশের নজরে আসার পর গত ১৭ মার্চ দ্রুততম সময়ে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে খোয়া যাওয়া বৈদ্যুতিক তারগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. রবিউল ইসলাম (২৮), আব্দুর কাদের (২৪) এবং মো. চঞ্চল শেখ (৩৮)। পুলিশ সুপার আরও জানান যে, ঝড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, কিন্তু সেটি কোনো পরিকল্পিত চুরি ছিল না। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী সংবাদগুলোর সত্যতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানান।

একই বিষয়ে আজ পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আইজিপির বাড়িতে চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। মূলত রাস্তার পাশে পড়ে থাকা সার্ভিস লাইনের তার নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকেই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর আরও নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার প্রকৃত হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত মালামাল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। যথাযথ তথ্য ছাড়া এমন সংবেদনশীল সংবাদ প্রচার না করার জন্য সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আইজিপির বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুসংহত এবং সেখানে চুরির খবরটি নিছক একটি ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তিকর প্রচার। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করায় স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।