Views: 5

পাহাড়-ঘেরা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, অনাবিল আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে থাকা মোট ২৭টি মসজিদে ধাপে ধাপে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই রঙিন পোশাকে সজ্জিত হয়ে মুসল্লিরা ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে সমবেত হতে শুরু করেন। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ, যার ফলে পুরো উপজেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব মিলনমেলা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

কাপ্তাই উপজেলার সবচেয়ে বড় এবং কেন্দ্রীয় ঈদের জামাতটি অনুষ্ঠিত হয় কাপ্তাই উপজেলা মডেল মসজিদে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাতে ইমামতি ও খুতবা প্রদান করেন বিশিষ্ট আলেম হাফেজ মাওলানা মো. সোলায়মান। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের পর তিনি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মানবজাতির বর্তমান সংকট নিরসন ও অনাবিল শান্তি লাভের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়।

এই কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং কাপ্তাই উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে উপস্থিত সকলের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ইউএনও মো. রুহুল আমিন বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ঈদের প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা। তিনি সবাইকে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।

একই সময়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কাপ্তাইয়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ধরে রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে উপজেলার অন্যান্য মসজিদগুলোতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মুর্শিদাবাদ জামে মসজিদ ও শিলছড়ি জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মসজিদে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মুসল্লিরা ঈদের জামাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিটি মসজিদেই নামাজ শেষে দেশ ও জাতির উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সার্বিকভাবে কাপ্তাই উপজেলায় এবারের ঈদ উদযাপন ছিল শান্তিপূর্ণ, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি জনপদে ২৭টি মসজিদে ঈদের এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো যে, উৎসবের রঙ ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে একই সূত্রে গেঁথে দেয়। প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কাপ্তাইয়ে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের জামাতগুলো সম্পন্ন হয়েছে।