Views: 4
বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরগুলোতে জনবল সংকটের এক বিশাল চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় সংসদে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদীয় অধিবেশনে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য অবস্থায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত হালনাগাদকৃত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। জনবল সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত ‘স্ট্যাটিসটিক্স অফ পাবলিক সার্ভেন্ট ২০২৪’ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ খালি রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষিত বেকার সমাজের জন্য বড় ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদনটির বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও এই স্তরে শূন্য পদের সংখ্যা ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। একইভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির ক্ষেত্রে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন কর্মরত আছেন এবং সেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের সংখ্যা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি, যেখানে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মরত রয়েছেন, কিন্তু এই শ্রেণিতেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ খালি পড়ে আছে। চতুর্থ শ্রেণির ক্ষেত্রে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত এবং শূন্য পদের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। এছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন পদে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত থাকলেও সেখানে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে।
সরকারের এই হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে যে, প্রশাসনের মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি স্তরেই জনবল ঘাটতি রয়েছে। এই বিশাল শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হলে সরকারি সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পদে শূন্যতার হার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক কাজকর্মে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংসদ অধিবেশনে এই তথ্য প্রকাশের পর থেকে কর্মপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে, কারণ এই পদগুলো পূরণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণ করা সরকারের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি দেশের মেধাবী যুবসমাজের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ। প্রশাসনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে এই শূন্যপদগুলো দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।