Views: 4

দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞের ডাক দিয়েছে সরকার। আগামীকাল রোববার (৬ এপ্রিল ২০২৬) থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি নির্বাচিত উপজেলায় একযোগে শুরু হচ্ছে বিশেষ ও জরুরি হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি। শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। মূলত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কাল সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। প্রথম পর্যায়ে যেসব উপজেলাকে নির্বাচন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের সদর ও হাইমচর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এবং নাটোর ও যশোর সদর। কর্মসূচির উদ্বোধনী দিনে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা পাঁচটি স্থানে সরাসরি উপস্থিত থাকবেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বিশেষ কারিগরি তথ্য উল্লেখ করে বলেন, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী। তাই আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, এই বয়সসীমার সকল শিশুকে পুনরায় টিকা প্রদান করা হবে। তবে যে সব শিশু বর্তমানে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভুগছে, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিকাদানের পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বরগ্রস্ত শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই মাসের মধ্যে এই কর্মসূচিকে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কেন কমেছিল— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীতের তদন্তে সময় নষ্ট না করে বর্তমান শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র ছাড়াও স্থানীয় স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং অস্থায়ী কেন্দ্রগুলোতে এই সেবা প্রদান করা হবে।

হাম ও রুবেলা নির্মূলে সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ শিশুদের দীর্ঘমেয়াদী পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। অভিভাবকগণকে নিজ নিজ এলাকার নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিশুদের টিকা পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও করণীয়: বিশেষজ্ঞদের বিশেষ পরামর্শ