Views: 4

গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র ও ব্যস্ততম ট্রাফিক হাব হিসেবে পরিচিত জয়দেবপুর চৌরাস্তা এলাকায় জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংযোগস্থল এই চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ দখলদার ও হকারদের কবলে থাকায় ভয়াবহ যানজট ও পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এই জনদুর্ভোগ নিরসনে সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৬ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি অসাধু ব্যবসায়ী ও হকারদের কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, আগামী ২ ঘণ্টার মধ্যে রাস্তা ও ফুটপাত খালি না করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যার মধ্যে জেল ও জরিমানা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অভিযানের সময় রাস্তার পাশে অবৈধভাবে টাঙানো বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়। এছাড়া শহরের সৌন্দর্য রক্ষায় ক্যাবল অপারেটরদের আগামী দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকা তার গুছিয়ে না রাখলে লাইসেন্স পরীক্ষা করা হবে এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশীদ। তিনি ফুটপাতে অবস্থানরত হকারদের দ্রুত তাদের মালামাল ও অস্থায়ী দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পরবর্তীতে কেউ পুনরায় রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর চেষ্টা করলে মালামাল সরাসরি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হবে। জনসাধারণের চলাচলের পথ সুগম রাখতে এবং মহাসড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপস্থিত হকারদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান যেন তারা সরকারি জায়গা দখল করে জনভোগান্তি সৃষ্টি না করেন।

এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসন মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ, গাজীপুর মহানগর কৃষকদলের আহ্বায়ক মোঃ আতাউর রহমান এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নিয়মিত এমন তদারকি বজায় থাকলে চৌরাস্তার চিরাচরিত যানজট নিরসন সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে চৌরাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটপাত অনেকটা ফাঁকা হতে দেখা যায়।

গাজীপুর চৌরাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ পথচারীরা। তবে উচ্ছেদের পর ফুটপাত যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও তিন বছরের শিশুর করুণ মৃত্যু