Views: 4
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড় ও তীরবর্তী এলাকা রক্ষায় নির্মিত বাঁধ এখন হুমকির মুখে। উপজেলার ৬নং চরভৈরবীর গাজীনগর এলাকায় রাতের অন্ধকারে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে নদীর পাড় কেটে মাটি ও বালু বিক্রির এক ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জুয়েল নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নদী পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলনের ফলে সদ্য নির্মিত কোটি টাকার রক্ষা বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী বসতবাড়ি যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, শত শত অবৈধ ড্রেজার দিয়ে নতুন জেগে ওঠা চরগুলো কেটে নেওয়া হচ্ছে। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জড়িতরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এবং এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাইমচর থানা প্রশাসনের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ প্রশাসনের কাছে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান। উপস্থিত জনতা আক্ষেপ করে বলেন, বহু বছরের কষ্ট ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নদী ভাঙন রোধে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য বাঁধের ব্লক ভেঙে বালু উত্তোলন করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ গাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের, ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল আখন, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাত মাঝি এবং তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক সবুজ পেদাসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ স্থানীয় জনগণের অভিযোগ শোনেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আশ্বাস দেন। তাঁরা বলেন, মেঘনা আমাদের সম্পদ, আর এই সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। যারা রাতের অন্ধকারে এই সম্পদ চুরি করছে, তারা মূলত গণশত্রু।
হাইমচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটোয়ারী এই প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবেশ ও জানমালের ক্ষতি করে এমন অপরাধের সাথে জড়িতদের পরিচয় যাই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পর হাইমচরের নদী পাড় রক্ষা পায় কি না।
নদী ভাঙন রোধে নির্মিত বাঁধ রক্ষা করা স্থানীয় জনগণের অস্তিত্বের লড়াই। রাতের আঁধারে বালু খেকোদের রুখতে প্রশাসনের নিয়মিত টহল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন: মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের কুফল ও প্রতিকার: বিশেষ প্রতিবেদন