Views: 2
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে গত সোমবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে একই পরিবারের চারজন সদস্যকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তাদের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে।
নিহতরা হলেন বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), সাত বছরের পুত্রসন্তান পারভেজ এবং মাত্র তিন বছর বয়সী কন্যাসন্তান সাদিয়া আক্তার। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা ঘাতকরা তাদের ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চারজনকেই গলা কেটে হত্যা করে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে পালিয়ে যায়। তবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ বা নেপথ্যের কুশীলব কারা, তা এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের পর প্রতিবেশীরা হাবিবুর রহমানের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা কৌতূহলবশত ঘরের ভেতর প্রবেশ করতেই রক্তাত ও বীভৎস দৃশ্য দেখে শিউরে ওঠেন। বিছানায় ও মেঝেতে চারজনের নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ামতপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহত পপি সুলতানার পিতা মোয়াজ্জেম হোসেন এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি আর্তনাদ করে বলেন, “আমার নিরপরাধ মেয়ে, জামাই আর নিষ্পাপ নাতি-নাতনিকে যারা এভাবে পশুর মতো গলা কেটে মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই। খুনিদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসি দেওয়া হয়।” বাহাদুরপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমরা একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আলোচনায় এলেও হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।”
একটি সাজানো গোছানো পরিবারকে এভাবে নিঃশেষ করে দেওয়ার ঘটনা সভ্য সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই নৃশংসতার সঠিক বিচার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নিহতের স্বজন ও সচেতন মহল।
আরও পড়ুন