Views: 25
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে দেশের মূল্যবান জ্বালানি সম্পদ অবৈধভাবে পাচার রোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত শনিবার (৭ মার্চ) থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সীমান্তে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে এই কড়া নজরদারি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে। মূলত ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকগুলো ফেরার পথে যাতে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল পাচার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বিজিবির এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এখন থেকে বন্দরে বিজিবি চেকপোস্টে প্রতিটি ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় তাদের জ্বালানি ট্যাংকের তেল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমাপ করা হচ্ছে। বিশেষ করে খালি গাড়িগুলো যখন পণ্য খালাস করে ভারতে ফেরত যায়, তখন সেগুলো যাতে অতিরিক্ত তেল বহন করে নিয়ে যেতে না পারে, সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছেন দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে ৫৯ বিজিবির এই কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক সময় ভারতীয় ট্রাক চালকরা বাংলাদেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম হওয়ার সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এই প্রবণতা বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বিজিবি। লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চেকপোস্টের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বন্দরের সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝেও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জ্বালানি সম্পদ রক্ষায় এই ধরণের কড়া তল্লাশি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত ট্রাক যাতায়াত করে, তাই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের যেকোনো তৎপরতা নস্যাৎ করে দিতে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সজাগ রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের এই কঠোর নজরদারি কেবল জ্বালানি সাশ্রয় করবে না, বরং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিজিবির এই দৃঢ় অবস্থান সীমান্ত এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যের পথ বন্ধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
দেশের সম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিক ও বাহিনীর পবিত্র দায়িত্ব। সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবির এই ত্বরিত ও কঠোর পদক্ষেপ জ্বালানি তেল পাচার রোধে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। সীমান্ত সুরক্ষায় এমন নিয়মিত তদারকিই পারে দেশের সম্পদ নিরাপদ রাখতে।