মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে আবাসিক ভবনে ইয়াবা তৈরির ‘মিনি ল্যাব’, বিপুল সরঞ্জামসহ মাদক আটক
রাজু হাসান, স্টাফ রিপোর্টার: / ১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসার ভেতরে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ নীল ও গোলাপি রঙের ট্যাবলেটের স্তূপ যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জব্দ করছেন।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি বাসার ভেতরে ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ নীল ও গোলাপি রঙের ট্যাবলেটের স্তূপ যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জব্দ করছেন।

Views: 10

৪০

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের আড়ালে গড়ে তোলা গোপন ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকার একটি বিশেষ গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই ‘মিনি ল্যাব’ বা মাদক তৈরির কারখানার হদিস পায়। অভিযানে বাসাটির ভেতর থেকে ইয়াবা তৈরির আধুনিক সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল জব্দ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় এমন ভয়ংকর মাদক কারখানার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো টঙ্গী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর ওই নির্দিষ্ট বাসাটি দীর্ঘ সময় ধরে মাদক প্রস্তুত ও সরবরাহের একটি নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। বাইরে থেকে ভবনটিকে সাধারণ আবাসিক বাসা মনে হলেও এর ভেতরে অত্যন্ত গোপনে চলছিল অবৈধ মাদক উৎপাদনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। সুকৌশলে চক্রটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ল্যাবরেটরি স্থাপন করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উৎপাদন করে আসছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। অবশেষে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আজ এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন বাসাটির ভেতর থেকে মাদক তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল, ট্যাবলেট তৈরির মেশিন এবং বিপুল পরিমাণ বাজারজাত করার উপযোগী ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, এই ল্যাব থেকে উৎপাদিত ইয়াবা রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় বড় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা হতো। চক্রটি সরাসরি মিয়ানমার থেকে মাদক আমদানির ঝুঁকি এড়াতে নিজেরাই স্থানীয়ভাবে নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে এই জীবনঘাতী মাদক তৈরি করছিল। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, যাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

আবাসিক এলাকায় এমন একটি গোপন কারখানা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কীভাবে সবার নজর এড়িয়ে এমন একটি ড্রাগ ল্যাব গড়ে উঠল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয়রা দ্রুত এই চক্রের সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জব্দকৃত আলামতগুলো ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করা হবে এবং এই শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেটের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানকে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাবের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মাদক কারবারিরা এখন আরও বেশি আধুনিক ও বিপজ্জনক কৌশল অবলম্বন করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সাফল্য সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard