ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলু। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু সাদাত মো. সায়েম পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৪৭ ভোট। প্রায় ২৫ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে এই জয় নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ সময় পর আসনটি পুনরুদ্ধার হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে উচ্ছ্বাসের জোয়ার।
কৃষি ও চাল উৎপাদনের জন্য দেশজুড়ে খ্যাত নওগাঁ সদর আসনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন দৃশ্যমান উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও এখানে গ্যাস সংযোগ পৌঁছায়নি এবং রাস্তার অবস্থাও জরাজীর্ণ। এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে উচ্চশিক্ষিত ও নম্র-ভদ্র নেতা হিসেবে পরিচিত জাহিদুল ইসলাম ধলুর ওপর আস্থা রেখেছেন ভোটাররা। সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের জোরালো দাবি—নওগাঁর উন্নয়নে জাহিদুল ইসলাম ধলুকে যেন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু জানান, নওগাঁর সাংগঠনিক কাঠামো ও কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এই জেলা থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
নিজের বিজয় প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, “এই জয় আমার নয়, এটি গণতন্ত্রের এবং দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ত্যাগের জয়। মন্ত্রিত্বের বিষয়ে তারেক রহমান ও দলের নীতিনির্ধারকরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা-ই চূড়ান্ত। তবে দায়িত্ব পেলে আমি মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে কাজ করব।” স্থানীয় ভোটারদের মতে, দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই জাহিদুল ইসলাম ধলুকে ভোট দিয়েছেন। এখন তাঁদের একমাত্র প্রত্যাশা—যোগ্য এই নেতা যেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে অবহেলিত নওগাঁর অভাবনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করেন।