বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন

নওগাঁর ভাষা সৈনিক বিশিষ্ঠ সমাজসেবক মোল্লা মোতাহারুল ইসলাম,করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
স্টাফ রিপোর্টার / ৫৭৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১

Views: 1

২৯

নওগাঁ প্রতিনিধি ঃ

নওগাঁ শহরের চকদেবপাড়া মহল্লার মরহুম তমিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে ভাষা সৈনিক ও বিশিষ্ঠ সমাজ সেবক মোল্লা মোঃ মোতাহারুল ইসলাম (৭৮) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।


মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ২ ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বুধবার সকালে মরহুমের মরদেহ রাজশাহী থেকে তার নিজ বাসভবনে আনা হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ মরহুমের বাসভবনে ভিড় জমান। বুধবার বাদ জোহর শহরের নওজোয়ান মাঠে নামাজে জানাজা শেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নওগাঁ কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মনজুর এ মোর্শেদ জানান, মোল্লা মোঃ মোতাহারুল ইসলাম গত ২৮ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর হাসপাতালে এন্টিজেন করোনা পরীক্ষা ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ আসে। এরপর তিনি আর নওগাঁ সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করেননি। তবে আমাদের তথ্যমতে তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শারিরিক অসুস্থ্যতার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জানা গেছে, মোল্লা মোতাহারুল ইসলাম ১৯৪৩ সালে নওগাঁ শহরের চকদেবপাড়া মহল্লার মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৫২-১৯৭০ পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৫৪ সালে হক ভাসানী নির্বাচনে ও ১৯৫৮-৫৯ এ আয়ুব বিরোধী আন্দোলনে নওগাঁর ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করেন এবং ১৯৬১-৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৬৯ সালের অসহযোগ আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে মওলানা ভাসানীর আর্দশে ভাসানী ন্যাপের সক্রিয় কর্মী ও নেতা হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মওলানা ভাষানীর ডাকে তিনি ফারাক্কা মিছিলে অংশগ্রহন করেন। ১৯৭০ সালে ভোলা, পটুয়াখালি, গলাচিপা, কুয়াকাটার ঘুর্নিঝড় ও জলোচ্ছাস এলাকায় সেবামূলক কাজে অংশ নেন।

১৯৭৬ সালে তিনি নওগাঁ পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি রাজনীতি ছাড়াও নওগাঁর বিভিন্ন শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি রেড ক্রিসেন্ট, ব্লাড ব্যাংক, ডায়বেটিক সমিতি, নওগাঁ জেলা মনোহারী বণিক সমিতি, আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম, জনকল্যান সংস্থার সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নওগাঁ কেন্দ্রীয় গোরস্থানের সাধারন সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আইডিয়াল স্কুল, জনকল্যান মডেল স্কুলসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম।

ব্যক্তিগত জীবনে ব্যবসায়ী এই প্রগতিমনা, সামাজিক ও বলিষ্ঠ সংগঠক মোল্লা মোতাহারুল ইসলাম একজন নির্লোভ সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনীতিক ব্যক্তি হিসাবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি পান। তার এই মৃত্যুতে জেলা সিপিবি, সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদ নওগাঁসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update
PhotoCard Icon
Create PhotoCard