মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
শিরোনাম:
প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্নআশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?কুতুপালং বাজারে ফের উচ্ছেদ অভিযান: যানজট নিরসনে কঠোর অবস্থানে প্রশাসনউখিয়ায় র‌্যাবের বড় অভিযান: ৫০ হাজার পিস ই/য়া/বা/সহ সিএনজি জব্দ ‎টেকনাফে র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান: চাঞ্চল্যকর গণধ/র্ষ/ণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতারখেলাধুলা ও মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে আগামীর নেতৃত্ব: এমপি মিলনশ্রীপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতশ্রীপুরে নানা আয়োজনে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনসাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ ভাতা লোপাটের অভিযোগ, শ্রীপুরে তোলপাড়পরিচয়হীন শিশুরাও মেতেছিল ঈদের আনন্দে গাজীপুরের ‘শিশু পল্লী প্লাস’গাজীপুর -৩ সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বাচ্চুকে ফুলেল সংবর্ধনাঈদ বোনাসের দাবিতে শ্রীপুরে শিক্ষা অফিসে দপ্তরিদের অবস্থান৬২ হাজার টাকায় কেনা বিড়াল অসুস্থ, টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশশ্রীপুরে আরসিসি ঢালাই রাস্তার উদ্বোধন

বিদেশি মাল্টায় শ্রীপুরে নতুন সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
বিদেশি মাল্টায় শ্রীপুরে নতুন সম্ভাবনা
google news আজকের বাণী এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
১২
গাজীপুরের শ্রীপুরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদেশি মাল্টা চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান। চাকরি ছেড়ে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি গড়ে তুলেছেন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় মাল্টা বাগান ‘বাওয়ানী এগ্রো ট্যুরিজম’। ইউটিউবে দেখে স্ব-শিক্ষায় আধুনিক মাল্টা চাষ প্রযুক্তি আয়ত্ত করে তিনি এখন সফল কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন এলাকাজুড়ে।
উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ডালেশহর সাতখামাইর এলাকায় প্রায় ৭ বিঘা জমিজুড়ে তৈরি হয়েছে তাঁর এই মাল্টা বাগান। চার বছর আগে শুরু করা এই বাগানে বর্তমানে রয়েছে ৫০০ মিশরীয় হলুদ মাল্টা গাছ এবং ৬০টি দার্জিলিং কমলা গাছ। সঠিক পরিচর্যা, উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের ফলে এসব গাছ এখন ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। এটি তাঁর দ্বিতীয় বাণিজ্যিক ফলন, যা ইতোমধ্যেই শ্রীপুরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মতিউর রহমান জানিয়েছেন, প্রথম বছর গাছপ্রতি প্রায় ২০ কেজি মাল্টা পেয়েছিলেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আগের বার ফলন উল্লেখযোগ্য ছিল। তবে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবুও পুরো বাগান থেকে প্রায় ৩ হাজার কেজি মাল্টা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন। বাজারে বিদেশি হলুদ মাল্টার চাহিদা বেশি হওয়ায় তিনি এই ফলন থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো আয় প্রত্যাশা করছেন।
তিনি বলেন, “আমি সবসময় প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে বিশ্বাস করি। ইউটিউব দেখে শিখেছি, বিদেশি কৃষকের চাষাবাদের ভিডিও থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছি। পরে নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টার গাছ লাগাই। পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করি। এখন এর ফলেই আমার জীবনে নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে।”
বাগান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি গাছে ঝুলে থাকা হলুদ মাল্টা বাগানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বাগানে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে সুপরিকল্পিত নকশা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। পর্যটকদের জন্য রয়েছে আলাদা হাঁটার পথ, বসার জায়গা, ছবি তোলার স্পট এবং ছায়া বিশ্রামকেন্দ্র। প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগান পরিদর্শনে আসছেন। এর ফলে স্থানীয় পর্যটনেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মাওনা থেকে বাগান পরিদর্শনে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর শাজাহান মল্লিক বলেন, “এই মৌসুমে ভিটামিন সি আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। এখানে আমরা যে বিশুদ্ধ ও অর্গানিক মাল্টা পাচ্ছি, তা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ভেজালমুক্ত। এটি আমাদের কাছে সত্যিই এক ধরনের সফলতা।”
শ্রীপুর পৌরসভা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রেজাউল করিম কৌশিক বলেন, “ফেসবুকে ভিডিও দেখে স্ত্রীর আবদারে এখানে আসলাম। আমি ব্যাংকে চাকরি করি, তবে এখানে এসে আমারও ইচ্ছে হচ্ছে চাকরি ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। খুব শিগগিরই মতিউর ভাইয়ের পরামর্শ নিতে আসব।
বাগান পরিচর্যা কর্মী নুরল হক জানান, “এখানে যারা ঘুরে আসেন, তারা মাল্টা দেখে হাতে করে কয়েক কেজি ফল কিনে নিয়ে যান। কেউ ৬০০ টাকা দিয়ে দুই কেজি মাল্টা নিয়ে যান, কেউ আবার পুরো পরিবারকে নিয়ে আসেন ছবি তোলার জন্য। এর ফলে স্থানীয় শ্রমিকদের জন্যও নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
মাল্টা বাগান ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙা হতে শুরু করেছে। আশপাশের গ্রামের অনেক মানুষ এখানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। কেউ ফল সংগ্রহে, কেউ পরিচর্যায়, কেউ আবার পর্যটক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ব্যবসার বিস্তারও ঘটেছে।
মতিউর রহমান বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল এমন কিছু করা, যা কৃষিভিত্তিক হলেও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হবে। শুধু নিজে সফল হওয়া নয়, এলাকার মানুষকেও এই পথে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।”
শ্রীপুরে আগে বিদেশি জাতের মাল্টা চাষ তেমন জনপ্রিয় ছিল না। কিন্তু মতিউরের সফলতা এখন অনেকের মাঝেই নতুন উৎসাহ জাগিয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, দেশে উপযুক্ত পরিচর্যা ও পরিবেশ থাকলে বিদেশি মাল্টা চাষ ব্যাপক সম্ভাবনাময় একটি খাত হতে পারে।
চাকরি ছেড়ে কৃষিকে বেছে নেওয়া মতিউর রহমান আজ শ্রীপুরে সফলতার অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ। বিদেশি মাল্টা চাষে তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এলাকার কৃষিভিত্তিক উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানিয়েছেন, “শ্রীপুরের মাটি ও জলবায়ু মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মতিউর রহমানের এই সফল উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকায় আরও অনেকে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগও নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে তাদের সহায়তা করছে।”
এছাড়া স্থানীয় যুবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা মনে করছেন, মতিউরের এই উদ্যোগ এলাকার তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা মনোভাব জাগাতে সহায়ক হচ্ছে। শ্রীপুরে এখন অনেকেই চাকরি ছেড়ে কৃষি খাতে নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করার চিন্তা করছেন। ফলে শুধু কৃষি চাষ নয়, পর্যটন, বিক্রয় ও স্থানীয় অর্থনীতিরও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন

বগুড়া, ধুনট: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন

প্রকৃতির নিষ্ঠুর পরিহাস আর ভাগ্যের নির্মম কষাঘাতে আজ ধূলিসাৎ এক সংগ্রামী মায়ের স্বপ্ন। বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শিমুলবাড়ি গ্রামের যমুনা নদীর বাঁধের নিচেই ছোট একটি জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরে বসবাস করেন সুফিয়া বেগম।

দুই মাস আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ, তাঁর স্বামী মারা যান। মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার পর এখন এই মা ও তাঁর পাঁচ কন্যাসন্তানের একমাত্র আশ্রয় এই জরাজীর্ণ ঘরটি। এই ঘরও আর সুরক্ষা দিতে পারছে ।

সামান্য বৃষ্টি নামলেই সুফিয়া বেগমের চোখে ঘুম আসে না। ঘরের টিনগুলো মরিচায় জীর্ণ, ফুটো দিয়ে অঝোরে ঝরে পড়ে বৃষ্টির পানি। ঝড়ের রাতে সেই নড়বড়ে ঘরে সারারাত জেগে থাকেন তিনি। বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায় তাঁদের সামান্য বিছানাপত্র, হাঁড়ি-পাতিল আর কষ্টের উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু। যে ঘরে থাকার কথা ছিল নিরাপদ ছায়ায়, সেই ঘরেই এখন তাদের ভিজে একাকার হতে হয়।

স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ক্ষুধার জ্বালা তাঁদের । সংসারে দেখার মতো কেউ নেই, উপার্জনের কোনো উৎস নেই। পাঁচ মেয়ের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে হিমশিম খাচ্ছেন এই অসহায় মা। কারো কাছে হাত পাততে লজ্জা, আবার না খেয়ে থাকাও অসম্ভব। অভাব আর অনাদরে বেড়ে ওঠা মেয়েগুলোর দিকে তাকালে বুক ফেটে কান্না আসে সুফিয়া বেগমের। তিনি কি এই সমাজে একেবারেই একা?

যমুনার পাড়ের এই শিমুলবাড়িতে সুফিয়া বেগমের ঘরটিতে এখন শুধু হাহাকার আর বৃষ্টির শব্দ। ঝড়ের রাতের সেই বৃষ্টির পানি আজ আর কেবল টিনের চালে পড়ছে না, পড়ছে এই অসহায় পরিবারটির অবশিষ্ট স্বপ্নের ওপর।
এই চরম দুর্দশাগ্রস্ত মানুষটির দিকে কি মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬

আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক অভিযানে মাদকসহ গ্রেফতার ৬ ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে পৃথক পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)।

মঙ্গলবার (৫ মে) ডিবি (উত্তর) সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বুড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১০০ পুরিয়া হেরোইন ও ২১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। একইদিন রাতে কুটুরিয়া এলাকায় পৃথক অভিযানে আরও তিনজনকে ১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

অন্যদিকে, সাভার থানার বক্তারপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক সংক্রান্ত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ২:২৯ অপরাহ্ণ
উখিয়ার কৃষি কি তবে বর্জ্যের তলায় হারিয়ে যাবে?

উখিয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখন আর সবুজ নেই। বড় কোনো ঘূর্ণিঝড় বা মহাপ্লাবন নয়, স্রেফ স্বাভাবিক বৃষ্টিতেই পাহাড় থেকে নেমে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য গিলে খাচ্ছে স্থানীয় কৃষকদের স্বপ্ন। মাঠজুড়ে পলিথিন, চিপসের প্যাকেট আর পচা আবর্জনা। কালচে পানি আর তীব্র দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠছে বাতাস। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্লাস্টিকের আস্তরণ আর রাসায়নিক মিশ্রিত নোংরা পানিতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে—কৃষক ভাষায় মাটি এখন ‘মৃত’।

‎রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন “প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার এলাকা পরিদর্শন করছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শুধু দেখতে আসা আর আশ্বাস দেওয়া দিয়ে তো কৃষকের পেট চলবে না। আমাদের প্রশ্ন—বাঁচানোর স্থায়ী উদ্যোগ কোথায়?”

‎ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষে অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি পালংখালীর সহ-সভাপতি এবং হোস্ট কমিউনিটি প্রতিনিধি এস. এম. জি মুফিজ উদ্দিন জানান, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও ও আইএনজিও (বিশেষ করে NRC, ওয়াশ প্রজেক্ট, সাইট ম্যানেজমেন্ট) এবং সিআইসি (CiC) অফিসে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। এনজিওগুলো ক্যাম্পের ড্রেনগুলো সরাসরি স্থানীয়দের জমি বরাবর তৈরি করে রেখেছে। ফলে ভারী বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পের জমাটবদ্ধ প্লাস্টিক ও বর্জ্য এসে কৃষকের সাজানো ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে।”
‎তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর জমি থেকে প্লাস্টিক ও ময়লা সরাতে গিয়ে কৃষকদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি—ক্যাম্পের ড্রেনগুলো সরাসরি জমিতে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট খালের সাথে সংযুক্ত করে সুপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

‎উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা জানান: ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের সঠিক চিত্র তুলে আনতে সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। বর্জ্য প্রবাহ ঠেকাতে স্থায়ী ‘গাইড ওয়াল’ নির্মাণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

‎উখিয়ার এই করুণ পরিণতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা:
‎ক্যাম্পে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংরক্ষণে ঘাটতি।
‎বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথটি সরাসরি কৃষিজমির সাথে যুক্ত।
‎উঁচু স্থান থেকে বর্জ্য সহজেই ঢালের সাথে লোকালয়ে চলে আসা।

‎স্থানীয় কৃষকদের জীবন এখন অনিশ্চয়তায় ঘেরা। প্রতিবার চাষের আগে জমি থেকে টন টন প্লাস্টিক সরাতে গিয়ে তাদের উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। জমি পরিষ্কারের বাড়তি মজুরি। বিষাক্ত পানির কারণে ফসলের মান ও পরিমাণ হ্রাস। অনেকেই এখন পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবিকার অন্য পথ খুঁজছেন।

‎যদি এখনই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক ও টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে উখিয়ার ঐতিহ্যবাহী কৃষি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। স্থানীয়দের দাবি—সাময়িক কোনো লোক দেখানো পরিষ্কার অভিযান নয়, বরং একটি টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরাসরি ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।