সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল সম্ভব: সিইসি
নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় সিইসি এসব কথা জানান। এর আগে তিন নির্বাচন কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। একজন কমিশনার বিদেশে অবস্থান করায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী উক্ত বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
সিইসি জানান, অভিনন্দনের জবাবে রাষ্ট্রপতি কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিত একটি নির্বাচন বলে উল্লেখ করে কমিশনকে সাধুবাদ জানান। সিইসি রাষ্ট্রপতিকে স্পষ্ট জানান যে, জাতীয় নির্বাচনের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সমান পেশাদারিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সাথে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জবাবে রাষ্ট্রপতি কমিশনকে আস্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন কমিশন যেভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে চায়, তিনিও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাই চান এবং কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীন সত্তা বজায় রাখতে তাঁর পক্ষ থেকে যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও উল্লেখ করেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উভয়েই দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসির সার্বিক প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন আচরণ বিধিমালা সংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং শেষে ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে এবং এখন কেবল সংশ্লিষ্ট ম্যানুয়াল তৈরির কাজ বাকি রয়েছে। সবুজ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে কাজ শুরু করে দেবে কমিশন। তিনি জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচনও ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দুটি নির্বাচনের সময় যাতে পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, তা নিশ্চিত করেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সার্বিক নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
সিইসি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ও সামাজিক নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বন্যা, দুর্গাপূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা এবং আগামী বছর ফেব্রুয়ারির শেষভাগে রমজান, ঈদ, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুম চলে আসায় উপযুক্ত সময় খুবই সীমিত। এছাড়া শীতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলায় ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তা নির্বাচনের বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বয় করা হবে। পরীক্ষা দ্রুত শেষ হলে নভেম্বরের শেষ নাগাদ ভোট গ্রহণের চেষ্টা করা হতে পারে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের শুষ্ক মৌসুম বিবেচনা করে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিইসি আরও জানান, প্রবাসী ও দেশীয় ভোটারদের সুবিধা দিতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সীমিত পরিসরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদ্ধতি যাতে ভবিষ্যতেও যেকোনো কমিশন ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য নিজস্ব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা ম্যানুয়াল তৈরি করা হচ্ছে। সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো চিঠি পাননি বলে জানান তিনি। সিইসি নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি তদারকি করবেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তিনি অর্থনীতি শাস্ত্রের ‘কনজিউমার সুভারেনটি’ ধারণার মতো নির্বাচনে ‘ভোটার সুভারেনটি’ বা ভোটারের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং ভোটারদের পূর্ণ মতামত নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের এই আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত ইতিবাচক। রাষ্ট্রপতি ও সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান এখন সময়ের প্রতীক্ষা।









