ফুলবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধ/র্ষ/ণ: যুবক গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বিয়ের মিথ্যা আশ্বাস ও প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে ইফতিয়ার আহমেদ জোবায়ের (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী তরুণীর দায়ের করা সুনির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত যুবককে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারকের আদেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।
দায়েরকৃত মামলার এজাহারের বিবরণী থেকে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী হাকিমপুর উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় ছয় মাস পূর্বে অভিযুক্ত জোবায়েরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে জোবায়ের তরুণীকে বিভিন্ন সময়ে আশ্বস্ত করেন যে, তাদের এই পরিণয়ে তার পরিবারের পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তারা সামাজিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। যুবকের এমন আশ্বাসে তরুণী সরল বিশ্বাসে সম্পর্কের গভীরতায় জড়ান।
অভিযোগে প্রকাশ, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে জোবায়ের তার বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কৌশলে ওই তরুণীকে ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চৌধুরীপাড়ায় তাদের নিজ বসতবাড়িতে নিয়ে যান। বাড়িতে উপস্থিত সকলের সামনেই বিয়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ভান করা হয়। এরপর সেখানে অবস্থান ও রাতযাপনের একপর্যায়ে তরুণীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিয়ের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোবায়ের জোরপূর্বক তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ৬ অক্টোবর সকালে ভুক্তভোগী তরুণী বিষয়টি জোবায়েরের পিতা-মাতার নজরে আনেন এবং তাদের আশু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এ সময় জোবায়েরের অভিভাবকরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বিয়ের সামাজিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করার মৌখিক আশ্বাস প্রদান করেন। এরপর জোবায়ের নিজে গিয়ে তরুণীকে তার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যাওয়ার কিছু সময় পরই যুবকের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই তরুণীকে কোনো অবস্থাতেই তিনি বিয়ে করবেন না।
যুবকের এমন আকস্মিক অস্বীকৃতির কারণ জানতে চাইলে জোবায়ের উল্টো তরুণীকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দিতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও জোবায়েরের পরিবারের সদস্যরাও তাকে পুত্রবধূ হিসেবে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। চরম প্রতারণা, অপমান ও সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়ে ভুক্তভোগী তরুণী কোনো উপায় না দেখে অবশেষে সুবিচারের আশায় ফুলবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।
মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পরপরই ফুলবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত জোবায়েরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার যথাযথ পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, তরুণীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিয়ের প্রলোভনে তরুণীদের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্কের পর অস্বীকার করার মতো সামাজিক অপরাধ তরুণ সমাজ ও পারিবারিক নিরাপত্তাকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সমাজে আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে হলে এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গকারী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতাই পারে অসহায় নারীদের সম্মান ও অধিকার সমুন্নত রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে।

