Views: 8
রাজধানী ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ মার্চ ২০২৬, শনিবার সকাল ঠিক সাড়ে ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারের ঈদের নামাজ কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক ও জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দীর্ঘ ৩৬ বছরের এক দীর্ঘ বিরতি ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ একই প্যান্ডেলে, একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার কিছু সময় আগে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে উপস্থিত হন। তাঁদের আগমনে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। এবারের প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। নামাজের পর তিনি খুতবা পাঠ করেন এবং দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে দেশের অগ্রগতি এবং পহেলা বৈশাখ ও ঈদের আনন্দে উদ্বেলিত জনগণের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহের এই ভিভিআইপি প্যান্ডেলে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য বিশেষ বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। মূল প্যান্ডেলের ভেতর প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির সংকুলান হলেও ঈদগাহের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও মুসল্লিদের ঢল নামে। ধারণা করা হচ্ছে, মূল প্যান্ডেল ও আশপাশের রাস্তা মিলিয়ে প্রায় ১ লাখেরও বেশি মানুষ এই জামাতে অংশ নিয়েছেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য পর্দার সাথে আলাদা নামাজের সুব্যবস্থা ছিল, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও সংলগ্ন এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সাথে না আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মুসল্লিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মাঠে নিয়োজিত ছিল দুটি দক্ষ মেডিকেল টিম। নামাজের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘ তিন দশক পর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের এই যৌথ উপস্থিতি দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত এই প্রধান জামাত কেবল রাজধানী নয়, বরং সমগ্র দেশের মানুষের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৬ বছর পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসাথে নামাজ আদায়ের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।