Views: 7
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্তে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ঈদের নামাজ শেষ হতে না হতেই উপজেলার আজিজুল হক উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গোপীনাথপুর ও ছোট হামেরদী গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ২৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা উৎসবের আমেজকে নিমিষেই ম্লান করে দেয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার রাতে। ওইদিন রাতে গোপীনাথপুর গ্রামের প্রভাবশালী নেতা কুদ্দুস মুন্সীর সমর্থকরা স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ঠিক একই সময়ে ছোট হামেরদী গ্রামের লিটন মাতুব্বরের অনুসারীরা সেখানে উপস্থিত হলে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই রাতেই টর্চলাইট জ্বালিয়ে গহীন অন্ধকারে উভয় পক্ষ প্রথম দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সেই রাতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবং সামাজিক আধিপত্য বজায় রাখার জেদ থেকে আজ শনিবার সকালে ঈদের জামাত শেষে পুনরায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকাটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের নামাজ আদায় করে মুসল্লিরা যখন কোলাকুলি ও আনন্দ বিনিময়ে ব্যস্ত থাকার কথা, ঠিক তখনই দুই গ্রামের শত শত মানুষ লাঠি, ঢাল, কাতরা ও ছ্যানাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তান্ডবে ছোট হামেরদী ও গোপীনাথপুর গ্রামের অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি বসতবাড়ি ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। শুধু বাড়িঘর ভাঙচুরেই ক্ষান্ত হয়নি দাঙ্গাবাজরা; অভিযোগ উঠেছে যে, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাড়ি থেকে অন্তত ১২টি মূল্যবান গবাদিপশু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আসবাবপত্র ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ গ্রামবাসী।
খবর পাওয়ার পরপরই ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক দফা টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুই জনকে আটক করেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবেশ থমথমে রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শান্তিকামী মানুষ।
ঈদের দিনে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এই ধরনের সহিংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা না হলে এমন তুচ্ছ ঘটনায় বারবার জানমালের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।