Views: 6
উত্তরবঙ্গের প্রমত্তা ব্রহ্মপুত্র নদ এবার এক জেলের ভাগ্যে বয়ে আনলো অভাবনীয় সাফল্য। গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি বন্দর সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে ধরা পড়েছে ৯০ কেজি ওজনের এক বিশালাকৃতির বাঘাইড় মাছ। শুক্রবার (২০ মার্চ) ভোরে মাছটি ধরা পড়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিশালাকৃতির এই মাছটি এক নজর দেখার জন্য দিনভর কামারজানি বন্দর ও পরবর্তীতে গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজারে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শেষ পর্যন্ত মাছটি এক লাখ টাকা মূল্যে বিক্রি হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে প্রতিদিনের মতো ব্রহ্মপুত্র নদে জাল ফেলেন স্থানীয় জেলে মোস্তাফা মিয়া। হঠাৎ জালে প্রচণ্ড টান অনুভব করলে তিনি বুঝতে পারেন বড় কিছু ধরা পড়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জাল টেনে তীরে তুলতেই দেখা যায় বিশাল এক বাঘাইড় মাছ। মাছটি কামারজানি বন্দরে নিয়ে এলে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষ মাছটি দেখতে ভিড় জমান। বিকেলে মোস্তাফা মিয়া মাছটি বিক্রির উদ্দেশ্যে গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজারে নিয়ে যান। সেখানে তিনি প্রথমে মাছটির দাম হাঁকেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। তবে দরদামের পর বাজারের এক বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী ১ লাখ টাকা নগদ মূল্যে মাছটি কিনে নেন।
মাছটি কেনার পরপরই ওই ব্যবসায়ী বাজারে কেজি দরে মাছটি বিক্রির ঘোষণা দেন। প্রতি কেজি ১ হাজার ১০০ টাকা দরে মুহূর্তের মধ্যেই ৯০ কেজি ওজনের বাঘাইড়টি শেষ হয়ে যায়। বড় মাছের স্বাদ নিতে এবং দুর্লভ এই অভিজ্ঞতার অংশ হতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে মাছ সংগ্রহ করেন। স্থানীয়দের মতে, ব্রহ্মপুত্রে মাঝে মাঝে বড় মাছ ধরা পড়লেও এত বিশাল আকারের বাঘাইড় গত কয়েক দশকের মধ্যে আর দেখা যায়নি। ফলে এই মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি পুরো এলাকার জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরণের উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জেলে মোস্তাফা মিয়া বলেন, নদ-নদীতে জাল ফেলে জীবিকা নির্বাহ করাই আমার পেশা। তবে আমার দীর্ঘ মাছ ধরার জীবনে এত বড় মাছ জালে আটকা পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম। প্রথমে বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১ লাখ টাকায় মাছটি বিক্রি করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু আমার জন্য নয়, বরং এই নদের উপর নির্ভরশীল সকল জেলের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা। মাঝে মাঝে এমন বড় মাছ পাওয়া গেলে আমাদের অভাব-অনটন অনেকটাই দূর হয়।
গাইবান্ধার স্থানীয় মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসীর মতে, ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা সংকটের মাঝেও এমন বড় মাছের অস্তিত্ব নদের জীববৈচিত্র্যের ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বড় আইড় বা পাঙ্গাস ধরা পড়লেও ৯০ কেজির বাঘাইড় ছিল সবার কল্পনার বাইরে। মোস্তাফা মিয়ার জালে ধরা পড়া এই মাছটি নিয়ে পুরো গাইবান্ধা শহরে এখন আলোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই মনে করছেন, নদের গভীরতা রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে এমন আরও বড় মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্র্রহ্মপুত্রের এই বিশাল বাঘাইড় মাছটি কেবল মোস্তাফা মিয়ার ভাগ্যই বদলায়নি, বরং এটি নদের প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধির জানান দিচ্ছে। ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া এই মাছটি সাধারণ মানুষের রসনাবিলাসে যেমন বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে, তেমনি জেলেদের মনেও জাগিয়েছে নতুন আশার আলো।