Views: 9
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন পরিবেশে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কেবল ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণ করার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত সৃষ্টি হয়। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। টানা দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাতের ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ম্লান হয়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুর রবের কলেজপড়ুয়া মেয়ে ও তাঁর ভাগনীকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিপক্ষ ফিরোজ মিয়া পক্ষের কয়েকজন যুবক ওই ছাত্রীদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। আজ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা যখন একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই পূর্ব বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাঠি, সোঁটা ও দেশীয় বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের শত শত মানুষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন বেশ কিছু বাড়িঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে নবীগঞ্জ থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হলে সংঘর্ষ থামানো সম্ভব হয়। পুলিশি তৎপরতায় বড় ধরণের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও এলাকাটি বর্তমানে থমথমে অবস্থায় রয়েছে।
সংঘর্ষে আহতদের চিৎকার ও চেঁচামেচিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে প্রেরণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট এই সংঘর্ষ বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
পবিত্র ঈদের দিনে নবীগঞ্জের এই সংঘর্ষ কেবল একটি আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয়, বরং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়কেও ফুটিয়ে তুলেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।