Views: 17
গাজীপুরের জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন হাবিব নামে এক পুলিশ সদস্য। ১৯শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে জয়দেবপুর রেল ক্রসিং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। আহত হাবিব গাজীপুর জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনায় তাঁর একটি হাত ও একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ব্যস্ততম এই স্টেশনে এমন ভয়াবহ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে এসআই হাবিব জয়দেবপুর রেল ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের ওপর অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলায় মগ্ন ছিলেন বলে জানা যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকাগামী দ্রুতগতির ‘পঞ্চগড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করে। মোবাইল ফোনে কথা বলার কারণে ট্রেনের আসার বিষয়টি তিনি সময়মতো লক্ষ্য করতে পারেননি এবং সরে যাওয়ার সুযোগ পাননি। দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়েন এবং ট্রেনের চাকায় তাঁর একটি হাত ও একটি পা কাটা পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্টেশনে থাকা যাত্রী ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।
জয়দেবপুর জংশন স্টেশনে এই দুর্ঘটনার পর রেললাইনের ওপর মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং কানে হেডফোন ব্যবহার করার ঝুঁকি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বারবার নিষেধ থাকা সত্ত্বেও অনেকে রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটাচলা করেন বা ফোনে কথা বলেন, যার ফলে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। এসআই হাবিবের মতো একজন সচেতন কর্মকর্তার এমন করুণ পরিণতিতে স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেলপথে চলাচলের সময় সামান্য অসাবধানতা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, জয়দেবপুরের এই ঘটনা তার এক করুণ দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে রেললাইনের আশেপাশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। এসআই হাবিবের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্ঘটনা রোধে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন ও ক্রসিং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।