Views: 4
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে এক রহস্যময় ও ধূম্রজাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও আইজিপি নিজে তা অস্বীকার করেছেন। এই বিপরীতমুখী বক্তব্যে পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করে যে, আইজিপি তাঁর পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত রবিবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ সভায় বাহারুল আলম দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়ে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাঁর সেই আকস্মিক বক্তব্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি করে। সূত্রমতে, সভার পর দুপুরের দিকে তিনি পদত্যাগপত্রটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তাও বিষয়টি শুনেছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে সন্ধ্যার পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। আইজিপি বাহারুল আলম বিভিন্ন গণমাধ্যমকে সরাসরি জানান যে, তাঁর পদত্যাগের খবরটি সঠিক নয়। তিনি বর্তমানে নিজ দায়িত্বে বহাল আছেন। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র বলছে, এ মুহূর্তে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নেই। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার পক্ষপাতী প্রশাসন। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার মতে, “পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এক বিষয়, আর তা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। সরকারিভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি আইজিপি পদে বহাল থাকবেন।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাহারুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। আগামী ২০ নভেম্বর তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই এই টানাপোড়েন শুরু হলো। গত জানুয়ারি মাসে তিনি সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করলে বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। এছাড়া, গত বছর ডিসেম্বরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এসবি প্রধান হিসেবে ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনও হয়েছিল, যা তাঁকে বেশ সমালোচনার মুখে ফেলে।
আগামী মঙ্গলবার দেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার কথা রয়েছে। ফলে বাহারুল আলমের পদত্যাগ বা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। নতুন সরকার আসার আগ পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা কাটবে কি না, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়—উভয় পক্ষই চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।