Views: 4

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য জাতীয় সংসদে পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত দেড় দশকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে দেশের বাইরে চলে গেছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা, বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ বিশ্বের একাধিক দেশে ছড়িয়ে থাকায় তা শনাক্ত ও উদ্ধারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করেছে সরকার, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং। এই দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইতোমধ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে এবং বাকি দেশগুলোর সঙ্গে প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে সংসদ নেতা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১১টি বড় মামলার অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে সিআইডি, এনবিআর এবং শুল্ক গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান দল কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, পাচারকৃত সম্পদ জব্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও তথ্য দেন যে, অর্থ পাচার সংক্রান্ত মোট ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান সরকার দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং দমনে আপসহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত আর্থিক অপরাধের পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ। পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিদেশে পাচার হওয়া জনগণের সম্পদ ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সফল হলে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাচারকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।