Views: 12
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ঘোষণা করেছেন যে, দেশে প্রবর্তিত নতুন কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের কারণে কোনো ধরনের মূল্যস্ফীতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং এই মহতী উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনীতি আরও সচল ও বেগবান হবে। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ সহায়তা প্রদানের ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হবে না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকার এই প্রকল্পের জন্য নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়ছে না। বরং বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু এই অর্থ কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হবে না, বরং দেশের ভেতরেই প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যয় হবে, তাই এটি স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাকে আরও চাঙ্গা করবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যখন একজন নারী বা কৃষক এই অর্থ হাতে পাবেন, তারা তা তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে স্থানীয় দোকানেই খরচ করবেন।
তারেক রহমান আরও জানান, এই কার্ড বিতরণের প্রক্রিয়াটি একটি পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি হিসেবে পরিচালিত হবে। পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই একসাথে শতভাগ মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব নয়। তাই সরকার প্রতি বছর বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি করবে এবং ধীরে ধীরে এর পরিধি সম্প্রসারণ করা হবে। অধিক সংখ্যক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অধিক সংখ্যক পুরুষ কৃষক কার্ডের সুবিধা ভোগ করবেন। প্রতি মাসের ব্যবধানে এই সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে যা দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও সুসংহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থনৈতিক প্রবাহের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন নারী যখন সরকার প্রদত্ত অর্থ দিয়ে তার সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাদ্য বা ক্ষুদ্র কোনো ব্যবসা পরিচালনা করবেন, তখন সেই অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিতে সঞ্চালিত হবে। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মুদি দোকান থেকে যখন পণ্য কেনা হবে, তখন ওই দোকানির বিক্রি ও আয় বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত ঘুরবে। দেশের সিংহভাগ মানুষ যেহেতু স্থানীয় শিল্পজাত পণ্য ব্যবহার করে, তাই এই উদ্যোগ দেশীয় উৎপাদন খাতের জন্যও আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে দেশের সামাজিক বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত হবে। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের পোর্টালের পরবর্তী আপডেটগুলোতে নজর রাখুন।