Views: 4
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষে তালিকাভুক্ত আবেদনকারীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত এই কার্ডগুলো আজ থেকে নির্দিষ্ট বুথ ও কার্যালয় থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর হবে এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সহজেই সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, উপজেলার খট্টামাধবপাড়া, বোয়ালদাড় ও আলীহাট ইউনিয়নের আওতাধীন আবেদনকারীরা আজ থেকেই সরাসরি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে তাদের নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। অন্যদিকে, হাকিমপুর পৌরসভা এলাকার আবেদনকারীদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কার্যালয় থেকে কার্ড সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কার্ড সংগ্রহের সময় প্রক্রিয়াটি দ্রুত ও সহজতর করতে আবেদনকারীদের সাথে আবেদনপত্রের একটি কপি নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে স্থানীয় হিলি ফিলিং স্টেশন থেকে ফুয়েল কার্ড প্রদর্শন ব্যতীত কোনো প্রকার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হবে না। এই নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। যারা এখনো এই ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদন সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য এখনো সুযোগ রাখা হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা অফিস চলাকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদনপত্র জমা দিয়ে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা এই কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, জ্বালানি তেল একটি মূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এর সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্ণ শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই ফুয়েল কার্ড প্রথা চালু করা হয়েছে। এর ফলে অবৈধ মজুতদারি বা জ্বালানি তেলের অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বস্তরের নাগরিকের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। নিয়মিতভাবে এই তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
হাকিমপুরে ফুয়েল কার্ড চালুর মাধ্যমে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যে আধুনিকায়ন শুরু হলো, তা স্থানীয় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের ফলে হিলি সীমান্তে জ্বালানি পাচার বা কালোবাজারি রোধে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আরও পড়ুন
“আমি গুরুত্বপূর্ণ কেউ নই” ভিডিও করতে নিষেধ করে তোপের মুখে ডিসি