Views: 2
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) শুকরিয়া পারভীনের একটি অনুষ্ঠানে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও বক্তব্য ভিডিও করতে নিষেধ করার প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে। জেলা পর্যায়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন আকস্মিক আচরণে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। উপস্থিত সাংবাদিকরা বিষয়টিকে মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত এবং পেশাগত অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও সুধীজনদের সঙ্গে নবাগত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শুকরিয়া পারভীনের এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই যথানিয়মে পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন হয়। এরপর যখন জেলা প্রশাসক তার মূল বক্তব্য প্রদান শুরু করেন, তখন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ পরিবেশনের জন্য তার বক্তব্যের ভিডিও চিত্র ধারণ করতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তেই জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বাধা প্রদান করেন এবং ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আপনারা আমার ভিডিও করবেন না। আমি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হইনি যে আমার বক্তব্য ভিডিও করতে হবে।” এ সময় তিনি ভিডিও ধারণে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করে সকল ক্যামেরা বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন।
নবাগত জেলা প্রশাসকের এমন অপ্রত্যাশিত ও বিরূপ নিষেধাজ্ঞায় সভাকক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকরা চরমভাবে হতভম্ব হয়ে পড়েন। পেশাদারিত্বের প্রয়োজনে সংবাদকর্মীরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করাকে তাদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ মনে করেন। কিন্তু খোদ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে এমন অসহযোগিতামূলক আচরণ আসায় তারা একে অপমানজনক হিসেবে গণ্য করেন। এর প্রতিবাদে সভায় উপস্থিত সকল সাংবাদিক তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন এবং হলরুম থেকে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিকদের এই সম্মিলিত প্রতিবাদে মতবিনিময় সভায় এক গুমোট ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার পর তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাংবাদিকতার মূল কাজই হলো জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্যের প্রয়োজনে স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করা। কোনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন, তা সংবাদ হিসেবে প্রচার করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। জেলা প্রশাসক যেভাবে ভিডিও করতে নিষেধ করেছেন, তা ইতিপূর্বে পঞ্চগড়ের কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দেখা যায়নি। তারা মনে করছেন, এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সংবাদ চর্চার অন্তরায়। বিষয়টি পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে অবহিত করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং এ নিয়ে সাংবাদিক মহলে বিস্তারিত আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছিলেন শুকরিয়া পারভীন।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমের কাজ হলো সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। মাঠ প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনে বাধা আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা না হলে প্রশাসনের সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের দূরত্ব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন