Views: 11
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে এবারও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই বিশাল জামাতে প্রায় ছয় লক্ষাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহত্তম জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত ১৯৯তম এই ঈদ জামাতে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর নির্দিষ্ট সময় আগে শটগানের ফাঁকা গুলির সংকেত দেওয়ার মাধ্যমেই নামাজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীতে পুরো শোলাকিয়া এলাকা ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের প্রতিটি পয়েন্টে মেটাল ডিটেক্টর ও তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশ নিশ্চিত করা হয়। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা গণমাধ্যমকে জানান, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সত্ত্বেও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শৃঙ্খলার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তিনি এই আয়োজনকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও সফল উৎসব হিসেবে অভিহিত করেন।
শোলাকিয়ার টানে ঈদের আগের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মুসল্লি কিশোরগঞ্জে আসতে শুরু করেন। অনেক মুসল্লি হোটেলের সংকুলান না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ীভাবে রাতযাপন করে ভোরেই ঈদগাহমুখী হন। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে খতিব সাহেব দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত ও নিপীড়িত মুসলমানদের মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আর্তনাদ ও প্রার্থনা করা হয়।
এবারের ঐতিহাসিক এই জামাতে অংশ নেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমি সবাইকে পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দোয়া ও কাজ করতে হবে। তিনি প্রশাসনের চমৎকার সমন্বয় ও নিরাপত্তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। সব মিলিয়ে শোলাকিয়ার এবারের ঈদ জামাত কেবল একটি বড় সমাগমই নয়, বরং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ধর্মীয় উৎসবের এক সফল বৈশ্বিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া আবারও প্রমাণ করল কেন একে উপমহাদেশের বৃহত্তম ও শ্রেষ্ঠ ঈদগাহ বলা হয়। ধর্মপ্রাণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও প্রশাসনের বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে এই ১৯৯তম জামাতটি ইতিহাসের পাতায় এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হলো।