শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

ইরান থেকে ধেয়ে আসছে মিসাইল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: / ১৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬
রাতের আকাশে ইরানের ছোড়া মিসাইল ধেয়ে আসছে এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা আকাশেই ধ্বংস করার চেষ্টা করছে
রাতের আকাশে ইরানের ছোড়া মিসাইল ধেয়ে আসছে এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা আকাশেই ধ্বংস করার চেষ্টা করছে

Views: 7

২৫

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল ইরান ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরান ফের নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। হামলার পরপরই ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) পক্ষ থেকে এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশপথ দিয়ে ধেয়ে আসছে। আইডিএফ আরও জানিয়েছে, ইরানের এই হুমকি প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো আকাশেই বেশ কিছু মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশটির সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

আইডিএফ-এর আপডেটে আরও জানানো হয়েছে যে, সম্ভাব্য হামলার এলাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বা শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে তেল আবিব ও জেরুজালেমের মতো প্রধান শহরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং ইরানের এই দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের পাল্টা জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হামলা মূলত গত কয়েক দিনের উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ। ইরান এর আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের ওপর কোনো ধরণের আঘাত আসলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে এই হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, তারা প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রতিআক্রমণের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করে রেখেছে।

ইরানের এই মিসাইল হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়ে এল। ইসরায়েল ও ইরানের এই সরাসরি সংঘাত এখন কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে, তা নিয়ে বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পরিস্থিতির পরবর্তী আপডেট জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও
Popular Post
Last Update