Views: 7
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে। এই বিজয়ের নেপথ্যে কাপ্তাইয়ের ৪নং ইউনিয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন দুই লড়াকু নারী নেত্রী—জাহেদা নিজামী ও পারুল আক্তার। পাহাড়ের রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তাঁদের এই সাহসী ভূমিকা আজ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত ১২ জুলাই গঠিত কাপ্তাই ৪নং ইউনিয়ন জাতীয় নির্বাচন কমিটিতে জাহেদা নিজামী উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, পারুল আক্তার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সরাসরি মাঠ পর্যায়ের প্রচার-প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন। এই দুই নারী নেত্রীর পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও চমৎকার সমন্বয়ের কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছিল। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে তাঁরা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
নির্বাচনী ময়দানে জাহেদা নিজামী ও পারুল আক্তারের মূল লক্ষ্য ছিল নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা এবং তাঁদের সচেতন করা। এই উদ্দেশ্যে তাঁরা বেশ কিছু বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন:
প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী ভোটারদের নিয়ে সচেতনতামূলক ছোট সভা আয়োজন। ভোটাধিকারের গুরুত্ব এবং ধানের শীষ প্রতীকের উন্নয়নের বার্তা নারীদের কাছে সহজভাবে উপস্থাপন। নির্বাচনী কার্যক্রমে সাধারণ নারীদের সম্পৃক্ত করতে বিশেষ উইং গঠন। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে নারীদের যে কোনো ভয়ভীতি দূর করতে সাহস প্রদান।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পক্ষে কাপ্তাই ইউনিয়নে নির্বাচনী ক্যাম্পেইন পরিচালনা করতে গিয়ে এই দুই নেত্রী যে সাংগঠনিক দক্ষতা দেখিয়েছেন, তার ফলস্বরূপ পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের নারী ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে। ধানের শীষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এই বিজয় কেবল প্রার্থীর নয়, বরং জাহেদা নিজামী ও পারুল আক্তারের মতো একনিষ্ঠ কর্মীদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের সার্থকতা। বর্তমান সময়ে দীপেন দেওয়ানের জয় নিশ্চিত হওয়ায় তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।
জাহেদা নিজামী ও পারুল আক্তার জানান, তাঁদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মূল ভিত্তি ছিল দলের প্রতি আনুগত্য এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা। ভবিষ্যতেও তাঁরা একইভাবে জনগণের আস্থা ও সমর্থন বজায় রাখতে কাজ করে যাবেন। তাঁদের এই নেতৃত্ব কাপ্তাইয়ের রাজনীতিতে নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। ঐক্যবদ্ধ কাজের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে তাঁরা সর্বদা সক্রিয় থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।