শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শিরোনাম:
হিলিতে যৌ/ন উত্তেজক অবৈধ সিরাপ জব্দহাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতনাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ ‎উখিয়া সীমান্তে ক্যাম্পের বাইরে থাকা ১৯ রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করল বিজিবিউখিয়া সীমান্তে বিজিবি’র বড় সাফল্য: ৫ লাখ ৫০ হাজার পিস ই/য়া/বা উদ্ধার। ‎হাকিমপুরের নতুন ইউএনও ও পৌর প্রশাসক হিসেবে জর্জ মিত্র চাকমার কার্যভার গ্রহণউখিয়ায় র‍্যাবের ঝটিকা অভিযান: দুই মাদক মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেফতার“নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং মানব পাচার রোধে প্রচারের বিকল্প নেই ” – গাজীপুরের ডিসি“সব মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন”: মায়ের মৃত্যুদিনে কুদ্দুস বয়াতির আবেগঘন বার্তাকক্সবাজারে স্কুলছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে মূলহোতা আরফাত গ্রেপ্তার, ভিকটিম ২৮ সপ্তাহের গর্ভবতীউখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন আরএমও হিসেবে ডা. নুরুল হাসানের দায়িত্ব গ্রহণপটিয়ার মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রুবেল টেকনাফে র‌্যাবের খাঁচায় আটকনরসিংদীর ভেলানগরে মাদক সম্রাট সমীর মিয়ার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিপটিয়ায় মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকচট্টগ্রামে লোকনাথ মন্দির দখল নিয়ে ইসকন ও সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ, কক্ষ ভাঙচুর

দুর্নীতিবাজদের আগে অ্যাভয়েড করা হতো, এখন লাফ দিয়ে যাই সম্মান করতে

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
দুর্নীতিবাজদের আগে অ্যাভয়েড করা হতো, এখন লাফ দিয়ে যাই সম্মান করতে
৩০

দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আগে দুর্নীতিগ্রস্ত লোককে সামাজিকভাবে অ্যাভয়েড করা হতো, মানুষ ঘৃণা করতো। তারা ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দিতে পারতো না। আর এখন লাফ দিয়ে আমরা যাই বিয়ে দিতে, সম্মান জানাতে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সমাজে দুর্নীতিকে ঘৃণা করতে হবে। বর্তমানে দুর্নীতিবাজ পুরষ্কৃত হচ্ছে। সমাজের সব ব্যক্তির পক্ষ থেকে দুর্নীতির তথ্য আসতে হবে। এনফোর্সমেন্ট একটি কঠিন বিষয়। বর্তমানে দুদক আগের চেয়ে বেশি দৃশ্যমান।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছা থাকলে সমাজে পচন ধরবে না, কমে আসবে দু্র্নীতি। আর্থিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বড় বিষয়। হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে, শাস্তি কী দেবেন? সারাজীবন কারাগারে থাকলেও সাজা হয় না। কারণ দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। শুধু শাস্তি দিয়েই নয়, সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধ করলে দুর্নীতি কমে আসবে।

সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব দেশে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে, সেখানে আজ আমাদের কার্যকর যোগাযোগ নেই; এমনকি যোগাযোগের পথও খুঁজে পাচ্ছি না। বিদেশে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে পড়ে আছে, আর সেসব দেশে এই অর্থ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার মতো লোকবলও আমাদের নেই।

মোমেন আরও বলেন, আগে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা আসতো। এখন বাস্তবতা উল্টো—বাংলাদেশ থেকে অর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যায় এবং পরে কোনো না কোনোভাবে আবার দেশে ফিরে আসে। এসব লেনদেনে বিভিন্ন ধরনের ‘ইনসেনটিভও’ থাকে। এত বড় কাঠামো একদিনে, এক মাসে বা এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়।

ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, গত ১৫ বছর ধরে যারা অপরাধ করেছেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক এলিটরা কোটি টাকার বিনিময়ে তাদের সীমান্ত পার করে দিয়েছেন। এসব লোককে আপনারা নির্বাচিত করবেন কি না তা চিন্তা করতে হবে। এখন সময় এসেছে—এমন লোকদের আমরা নির্বাচিত করবো কি না এটা ভাবার।

তিনি বলেন, ভোট হলে শতভাগ লোক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তারপরও দুর্নীতি দূর করা কঠিন। আগামী নির্বাচন পরবর্তী শাসন করার জন্য দুঃশাসক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী রাখলে উন্নত দেশ পাওয়া কঠিন। ক্ষমতাচ্যুতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কে যারা সহযোগিতা করেছে টাকার বিনিময়ে, তাদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, গত ১৫ বছরে যেসব দেশে টাকা পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে দুদকের যোগাযোগ নেই। এসব টাকা ফিরিয়ে আনার জন্য সেসব দেশে ফাস্ট সেক্রেটারি পদমর্যাদার কর্মকর্তা পাঠাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অনেকেই দেশ ছেড়েছেন—পালিয়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে বায়তুল মোকাররমের খতিব—এটিই দেখায় দুর্নীতি কত গভীরে পৌঁছেছে। যদি শুরুতেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতো, তাহলে আমাদের ১৫–১৬ বছরের ভোগান্তি হতো না।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্পদ বিবরণী জমা দিয়েছিলেন। সেখানে কৃষিজমির পরিমাণ দেখানো হয়েছিল ৫ দশমিক ২১ একর। ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন যাচাই করেও তাতে সমস্যা পাওয়া যায়নি। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, জমি রয়েছে ২৯ একর। গাড়ির বিবরণীতেও অসংগতি পাওয়া যায়—অতিরিক্ত দুটি গাড়ি যুক্ত ছিল, যার একটি তৎকালীন এক এমপি এবং অন্যটি সাবেক যুব প্রতিমন্ত্রীর নামে, যা কিনা ‘পাঁচ নম্বর সুধা সদন’ এর নামে কেনা হয়েছিল এবং সরকারের ভর্তুকিও দেওয়া হয়নি।

মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, যদি তখনই এসব অসংগতি ধরা হতো, সেক্ষেত্রে তার নমিনেশন বাতিল হতো। নমিনেশন বাতিল হলে তিনি এমপি বা প্রধানমন্ত্রী—কিছুই হতে পারতেন না। এমনকি তার দল ক্ষমতায় আসতো কি না সেটাও প্রশ্ন ছিল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৫ ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। আমরা শুধু ঘুস নিয়ে কাজ করছি, দুর্নীতির অনেকগুলো ধরনের মধ্যে ঘুস মাত্র একটি ধরণ।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে সরকারি সব প্রকল্পের ডিটেইলস অনলাইনে পাবলিশ করতে হবে। এমনকি কোনো তথ্য আপডেট হলেও তা জনগণকে জানাতে হবে। টাকা একবার চুরি হয়ে গেলে তা উদ্ধার করা কঠিন। বাংলাদেশে দুর্নীতি পদ্ধতি ভিন্ন, এখানে বিদেশি পদ্ধতি কাজ করবে না। আমাদের নিজস্ব মডেল তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, দুদক মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আক্তার হোসেন, আবু হেনা মুস্তফা জামান, মোকাম্মেল হকসহ দুদকের পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালকসহ পাঁচ শতাতিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

হিলিতে যৌ/ন উত্তেজক অবৈধ সিরাপ জব্দ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
হিলিতে যৌ/ন উত্তেজক অবৈধ সিরাপ জব্দ

সীমান্তঘেসা উপজেলা হাকিমপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৪০ টাকার সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক অবৈধ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন ১০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১০জুন খ্রিস্টাব্দ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টায় হাকিমপুর থানার পুলিশ সদস্যরা সরকারি পিকআপযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে হাকিমপুর পৌরসভার রাউতারা গ্রামে মোঃ মাহাফুজার রহমান মিলনের বাড়িতে অবৈধ যৌন উত্তেজক পণ্য মজুত রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করলে আসামি মোঃ মাহাফুজার রহমান মিলন ও মোঃ আরিফুল হাসান পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আসামি মিলনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ৫,৩৭৬ বোতল “জিনসি (শরবত জিনসিন)” এবং ৭৬৮ বোতল “একে এল-ওয়ান সিরাপ” উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট মূল্য প্রায় ৪,২৬,২৪০/- (চার লক্ষ ছাব্বিশ হাজার দুইশত চল্লিশ) টাকা। পণ্যগুলো ঔষধ হিসেবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুত রাখায় ঘটনাস্থলে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত জব্দ করে পুলিশ।পরবর্তীতে বাদী এজাহার দাখিল করিলে মামলাটি রুজু করা হয়।

এ ঘটনায় হাকিমপুর থানায় মামলা নং-১২/১১৬, তারিখ ১১ জুন ২০২৬, ধারা ১৪(১), ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।ওসি জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মামলাটির তদন্ত করছেন হাকিমপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) ওমর ফারুক বলেও জানান তিনি।

হাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
হাকিমপুরে নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

দিনাজপুরের হাকিমপুরে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
এ সময় নবাগত ইউএনও জর্জ মিত্র চাকমা সকলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, “সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা কাজ করবে। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং উপজেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ ‎

মোঃ হারুন অর রশিদ উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ: বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ ‎

‎বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম সোনাইছড়ি এলাকায় বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনায় মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ঔষধ, শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী এবং পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

‎এদিন সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেডিকেল ও জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সবৃন্দ সেবা প্রদান করেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা এতে অংশ নেন। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার যেসব অসুস্থ ও প্রবীণ মানুষ হেঁটে আসতে অক্ষম ছিলেন, তাদের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে ক্যাম্পে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়।

‎দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ৩০০ জন গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়।
‎সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ জন এবং সোনাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা-কলমসহ শিক্ষা সহায়কের পাশাপাশি খেলাধুলার উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
‎ক্যাম্পে আগত দুস্থ সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট প্রায় ৬০০ জনের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়।
‎সামাজিক কাজে উৎসাহ জোগাতে ভলান্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ২ জন শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষার্থীকে ১১ বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়।

‎ বিজিবি জানায়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সীমান্তবর্তী জনসাধারণের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

‎অনুষ্ঠানে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের (১১ বিজিবি) অধিনায়ক ও পরিচালক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জনবান্ধব ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।”

‎তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডাক্তার, নার্স, ছাত্র-ছাত্রী, আনসার-ভিডিপি এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে এই মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। এটি বিজিবির নিয়মিত মানবিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ এবং ভবিষ্যতেও ১১ বিজিবির পক্ষ থেকে এই ধরনের কল্যাণমূলক ও জনহিতকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।