কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ

প্রতিবেদক: এমদাদুল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বসতবাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ
২৩

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে এক রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ নির্দেশে এক বয়োজ্যেষ্ঠ অসহায় নারীর বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই আকস্মিক ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনমনে গভীর ভীতি ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত ওই অভিযোগে স্থানীয় ৫নং যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনকে এই হামলার মূল ইন্ধনদাতা ও সরাসরি নির্দেশ প্রদানকারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দেশে সংশ্লিষ্ট দলটির প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পদধারী নেতার এমন প্রভাব বিস্তার, এলাকায় দাপুটে বিচরণ এবং ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা জল্পনাকল্পনা ও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

​প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থানীয় তথ্যে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর নাম মোছা. রাবিয়া (৬২)। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার অন্তর্গত মনোহরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গনির স্ত্রী। কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় দাখিলকৃত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে তার বসতবাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো হয়। কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই হামলায় পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিবরণীতে প্রকাশ, ঘটনার দিন বিকেলে অভিযুক্ত মো. আলী ইখতিয়ার খান (৫০)-এর নেতৃত্বে ৮ থেকে ৯ জনের একটি অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দল অতর্কিতে রাবিয়ার বাড়ির প্রবেশমুখে সমবেত হয়। তাদের কাছে রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও শক্ত লাঠিসোঁটার মতো প্রাণঘাতী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। লিখিত অভিযোগে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে, অস্ত্রধারী এই সন্ত্রাসী দল মূলত আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলমগীর হোসেনের সরাসরি ইশারা, প্ররোচনা ও কঠোর নির্দেশনায় এই বর্বরোচিত হামলাটি পরিচালিত করেছে।

​হামলাকারী দলটি আঙিনায় ঢুকেই কোনো কারণ ছাড়াই রাবিয়াকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। বয়োজ্যেষ্ঠ নারী এই অন্যায্য আচরণের প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা আরও হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বসতঘরের মূল স্টিলের প্রবেশদ্বারে বেপরোয়াভাবে একের পর এক আঘাত করতে থাকে এবং দরজাটি ব্যাপকভাবে কুপিয়ে ক্ষতিসাধন করে। এমন ভয়াবহ তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করে প্রাণভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত রাবিয়া দ্রুত ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেন এবং ভেতর থেকে শক্তভাবে খিল আটকে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোনোমতে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন।

​তাণ্ডব চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে। তারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের থানা-পুলিশ, আইনি ব্যবস্থা কিংবা মামলা-মোকদ্দমার আশ্রয় নিলে এর পরিণাম হবে অত্যন্ত মারাত্মক। একই সঙ্গে তাদের দাবি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের চাঁদা পরিশোধ করা না হলে পরবর্তীতে বসতঘরের সমুদয় মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে পুরো বাড়িটি জবরদখল করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়ে তারা এলাকা ত্যাগ করে।

​এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতায় কাতর মোছা. রাবিয়া কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিশদ বিবরণ উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী তাণ্ডবের একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। সেই সাথে হামলায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসী এবং নেপথ্যের মূল হুকুমদাতার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ নিজের পরিবারের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোরালো আবেদন জানান।

​এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ নাগরিকদের প্রশ্ন, বর্তমান বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন পদধারী নেতা প্রকাশ্যে এলাকায় মহড়া দিচ্ছেন এবং হামলা বা চাঁদা দাবির মতো দুঃসাহস দেখাচ্ছেন। গুরুতর এই অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পরও অভিযুক্তকে কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে অনেকেই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তরা পার পেয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

​আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে বলে নিশ্চিত করেছে। কিশোরগঞ্জ মডেল থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগটির বিস্তারিত অনুসন্ধান ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। থানার একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও অভিযুক্তদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অত্যন্ত কঠোর ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ সমাজে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে নিরীহ ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের ওপর এমন পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রকাশ্য দিবালোকে বসতবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর, চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়া সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনের প্রতি গণমানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সকল অপরাধীকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করাতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে যথাযথ শাস্তির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এখন প্রধান দাবি।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...