বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
শিরোনাম:
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতারশাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫বাংলাদেশ প্রেসক্লাব গাজীপুর মহানগর শাখার উদ্যোগে আনন্দঘন পরিবেশে নৌকা ভ্রমণ-২০২৬ অনুষ্ঠিতহিলিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনহিলিতে নানা আয়োজনে সীমান্ত ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিতহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিতউখিয়ায় ‘দক্ষিণ থাইংখালী পুঁটিবনিয়া প্রবাসী কল্যাণ সমবায় সমিতি’ গঠিত: মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরুউখিয়ায় বিজিবির চার সফল অভিযান: ২ লাখ ৯৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ২, জিপ ও নৌকা জব্দউখিয়ায় জেলের ছদ্মবেশে ইয়াবা পাচারকালে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল সার ও তেলসহ আটক ১রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বর্জ্যের দৃশ্যমান স্তূপ: হুমকির মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।‎নাফ নদীতে মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো বদিউল আলম দীর্ঘ ২৩ দিন চিকিৎসা শেষে বাসায় আসলেন।টেকনাফে ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার।কক্সবাজারের চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হ/ত্যা মামলার প্রধান আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার।

রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার ৪১ বছর
৭৯

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪১ বছর পার করেছেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন এ নেত্রী।

বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় আপসহীন নেত্রীর উপাধি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছিল স্বামী জিয়াউর রহমানকে হারানোর বেদনা নিয়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর সংকটে পড়ে বিএনপি। ঠিক সেই সময় গৃহবধূ থেকে খালেদা জিয়া দলটিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

চেয়ারপারসনের প্রচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাত-দলীয় জোট গঠন করে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম শুরু করে। এরশাদের স্বৈরশাসন অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত দীর্ঘ সংগ্রামে খালেদা জিয়া অবৈধ এরশাদ সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার আপস করেননি। বিভিন্ন সময়ে নিষেধাজ্ঞামূলক আইনের দ্বারা তার স্বাধীন গতিবিধিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর আট বছরে সাত বার অন্তরীণ করা সত্ত্বেও জেনারেল এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত কারার আন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া।

৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার সংকটের মুখে পড়েছেন খালেদা জিয়া। নব্বইয়ের গণআন্দোলনের পর বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে আদালতের আদেশে যেমন তার স্বামীর সময়ে পাওয়া বাড়ি হারাতে হয়েছে, তেমনি ছোট সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর লাশও তাকে দেখতে হয়েছে। ২০১৫ সালে ৩ মাসের অবরোধ চলাকালে তার বিরুদ্ধে আগুন সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। যদিও বিএনপির নেতারা বরাবরই বলে এসেছেন, ‘আগুন সন্ত্রাস ক্ষমতাসীনদের কৌশল।’

জাতীয়তাবাদী ঘরানার বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। দেশের জনপ্রিয়তম নেত্রী তিনিই। নির্বাচন করে কখনোই নিজের আসনে হারতে হয়নি বিএনপির চেয়ারপারসনকে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রচার বিভাগ থেকে জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ব্যবসা উপলক্ষে জলপাইগুঁড়িতে বসবাস করতেন। তার আদি নিবাস ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায়। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর জলপাইগুঁড়িতে চা ব্যবসা ছেড়ে তিনি দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

৫ ভাই-বোনের মধ্যে খালেদা জিয়া তৃতীয়। দুই সন্তান তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী খালেদা জিয়া।

দিনাজপুর মিশনারি স্কুলে খালেদা জিয়া প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন এবং পরে ১৯৬০ সালে দিনাজপুর বালিকা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ওই বছরই তৎকালীন ক্যাপ্টেন (পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

এরশাদের শাসনামল ছাড়াও খালেদা জিয়া জেলে গিয়েছিলেন ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তারের পর সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএম আদালতে। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হলে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত সাব জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই কারাগারে ৩৭২ দিন কাটানোর পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান। কারাবন্দি থাকাকালেই তার মায়ের মৃত্যু হয়।

সাব জেলে থাকার সময় ২০০৮ সালের ১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার মা বেগম তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরে নিজ বাসভবনে মারা যান। তার লাশ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরদিন (১৯ জানুয়ারি) খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনুল রোডের বাসায় গিয়ে মায়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যেতে হয়। প্রায় দুই বছর কারাবন্দি থাকার পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ বিশ্বে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় পারিবারিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাসের জন্য শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। শর্ত ছিল—তিনি গুলশানের বাসায় থাকবেন এবং দেশ ত্যাগ করবেন না। পরে ছয় মাস করে একাধিকবার সরকার তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাকে দণ্ডমুক্ত ঘোষণা করলে বিএনপি চেয়ারপারসন সম্পূর্ণ মুক্তি পান।

গত প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশের নির্বাচনে খালেদা জিয়া অন্যতম জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন; যিনি তার রাজনৈতিক জীবনে কখনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই ৫টি আসনে প্রার্থী ছিলেন। সবগুলো আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন। সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতে জয়ী হন।

এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আর দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি খালেদা জিয়া। সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনও বয়কট করে বিএনপি। অর্থাৎ ২০১৪ সাল থেকে নির্বাচনের বাইরে ছিলেন খালেদা জিয়া। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তার ৩টি আসন থেকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরমধ্যে দ্বিতীয় দফার দায়িত্বকাল ছিল একমাস।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি বিজয়ী হয়। ওই বছরই বেগম জিয়া পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বেই সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার পদ্ধতি থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন হয়।

১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর এক মাসের জন্য ষষ্ঠ সংসদের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়নের পর ওই বছর সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যায় খালেদা জিয়ার দল বিএনপি, তিনি হন প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা।

১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি, গোলাম আজমের (একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত) নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের নেতৃত্বাধীন ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে গঠিত চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২০০১ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর বিরোধী দলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
উখিয়া সীমান্তে বিজিবির ঝটিকা অভিযান: ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ কামাল (৩৩) নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। বিজিবির আভিযানিক দলের বিচক্ষণতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্ত পারাপারের এই বড় ধরনের মাদক চোরাচালানের চেষ্টা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গভীর রাতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ বালুখালী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল সীমান্ত সংলগ্ন কাটাপাহাড় এলাকার শাহজাহানের ঘের নামক স্থানে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আটককৃত মোঃ কামাল উখিয়া থানাধীন বালুখালী জমিদারপাড়া গ্রামের অধিবাসী কবির আহমেদের ছেলে।

ঘটনার বিশদ বিবরণ প্রদান করে বিজিবি সূত্র জানায়, মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চল থেকে একদল চোরাকারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্য পান বালুখালী বিওপির টহল দলের সদস্যরা। উক্ত খবরের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা কালবিলম্ব না করে উখিয়ার কাটাপাহাড় শাহজাহানের ঘের এলাকায় আড়াল নিয়ে কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মায়ানমার সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে এক ব্যক্তিকে চরম সতর্কতার সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা।

সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি কাছাকাছি পৌঁছালে বিজিবির চৌকস দল তাকে লক্ষ্য করে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানায়। তবে বিজিবির স্বশরীরে উপস্থিতি টের পেয়ে উক্ত ব্যক্তি সাথে থাকা মালামালসহ দ্রুত কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় বিজিবি সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই জাপটে ধরে আটক করতে সক্ষম হন। আটক করার পর উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ ও সঙ্গে থাকা মালামাল তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে তার হাতে থাকা একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো খাকী প্যাকেটের ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে রাখা নীল রঙের ৪টি প্যাকেটে মোট ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) পিস ক্ষতিকারক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।

আটককৃত মোঃ কামালকে ঘটনার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিজিবির কাছে সরাসরি স্বীকার করেছে যে, সীমান্ত পার হয়ে মায়ানমার এলাকা থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয় করে সংগ্রহ করেছিল। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই সে এগুলো বহন করছিল।

এই সফল অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের সত্যতা সুনিশ্চিত করে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ সতর্ক ও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই চালানের পেছনের মূল সরবরাহকারী, অর্থদাতা ও নেপথ্যের কারবারীদের সঠিকভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সীমান্ত জুড়ে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে ক্ষতিকর ইয়াবা ও মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে ৬৪ বিজিবির এই সময়োপযোগী ও জোরালো অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সীমান্ত রক্ষীদের এমন কঠোর ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি অব্যাহত থাকলে দেশের যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১১ অপরাহ্ণ
উখিয়ায় পিস্তল ও গুলিসহ আরসার সক্রিয় সন্ত্রাসী জহির গ্রেফতার

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৫)। এই উদ্ধার অভিযানে সন্ত্রাসী সদস্যটির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এহেন সফল অভিযানে ক্যাম্প এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

র‌্যাব সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটের দিকে উখিয়া থানাধীন ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মরাগাছতলা এলাকার মাল্টিপারপাস কমিউনিটি অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের সামনের পাকা রাস্তার ওপর চেকপোস্ট স্থাপন করে এই ঝটিকা অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীর নাম মোহাম্মদ জহির (১৯)। সে উখিয়ার ময়নারঘোনা ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ব্লক-০২)-এর স্থায়ী বাসিন্দা রশিদ আহম্মদের ছেলে।

অভিযানের বিষদ বিবরণ দিয়ে র‌্যাব-১৫ জানায়, গোপন সংবাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-২ (হোয়াইক্যং ক্যাম্প)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল মরাগাছতলা সাকিনস্থ ইট সলিং রাস্তার ওপর বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। ওই সময় পথচারীদের চলাচলের মাঝে যুবক জহিরের গতিবিধি ও উপস্থিতি অত্যন্ত সন্দেহজনক মনে হলে র‌্যাব সদস্যরা তাকে থামার সংকেত দেন এবং আটক করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে পরিহিত পোশাকের ভেতর থেকে একটি বিদেশি তৈরি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত তরুণ সন্ত্রাসী জহির স্বীকার করেছে যে, সে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরসার (ARSA) একজন সক্রিয় ও তালিকাভুক্ত সদস্য। সে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বেআইনি অস্ত্র বহন, সাধারণ রোহিঙ্গাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানাবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

ঘটনার সত্যতা ও আইনানুগ ব্যবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত করে র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, আটককৃত জহিরের বিরুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে ১৮৭৮ সালের প্রচলিত অস্ত্র আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অবৈধ আলামতসহ তাকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাবের এই মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা রোধে র‌্যাবের এমন ধারাবাহিক ও সফল অভিযান অত্যন্ত সময়োপযোগী। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে ক্যাম্প ও স্থানীয় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে।

শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

মোঃ হারুন অর রশিদ, উখিয়া প্রতিনিধি (কক্সবাজার) প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
শাহপরীর দ্বীপে কোটি টাকার আইসের চালান জব্দ করল র‍্যাব-১৫

কক্সবাজারের সীমান্তবেষ্টিত টেকনাফ উপজেলায় এক বিশেষ ও সাহসিক অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৫)। সীমান্ত পার হয়ে আসা ভয়াল এই মাদকের চালান জব্ধ করার বিষয়টি শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক।

র‍্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে র‍্যাব-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল একটি তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য পায়। আভিযানিক দলটি জানতে পারে যে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শাহপরীর দ্বীপ মাঝের ডেইল এলাকায় জনৈক খামিন মাঝির বসতবাড়ির পাশে কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য কেনাবেচার উদ্দেশ্যে গোপন অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে গভীর রাতে আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে র‍্যাবের চৌকস দল উক্ত স্থানে অভিযান চালাতে পৌঁছায়। এ সময় এলাকাটিতে র‍্যাব সদস্যদের উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থান টের পেয়ে ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ীরা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ফেলে রেখেই রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‍্যাব সদস্যরা স্থানীয় নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের ব্যাগটি নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি করেন। ব্যাগটির ভেতর থেকে ১ কেজি করে মোট ৩টি অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। চায়ের প্যাকেটের আদলে তৈরি প্যাকেটগুলোর গায়ে “GUANYINWANG” লেখা ছিল এবং সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে নিখাদ ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়।

অভিযান শেষে র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে যে একটি সুচিহ্নিত ও সংগঠিত মাদক কারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মায়ানমার সীমান্ত ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনে এই মারাত্মক ও নতুন প্রযুক্তির মাদক দেশে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে এসব চালান কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণ সমাজের হাতে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। উদ্ধারকৃত কোটি টাকার এই আইসের চালান পরবর্তী আইনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সাথে এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ও পলাতক আসামিদের দ্রুত সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রবেশের বিরুদ্ধে র‍্যাবের এই ধরনের কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশংসনীয়। টেকনাফ ও সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা গেলে এমন ভয়াল আইস চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।