গাজীপুরের শ্রীপুর রেল লাইনের পাশ দিয়ে জেলা সদরের সাথে সহজ সংযোগের জন্য নতুন একটি সড়ক নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সদস্য অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুসহ এলজিইডির প্রতিনিধিগন।
শ্রীপুর উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, এ সড়কটি নির্মাণ হলে বাস ট্রাক সহ সকল ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জেলা সদরের সাথে উপজেলার দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ১০ কিলোমিটার।
গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর এলাকার মানুষ জনের চলাচল সহজ করতে এ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যে এর কাজ শুরু করতে পারবো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগন।
হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের সাদুরিয়া গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গ্রামের একটি মুদি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন শেফালী (৩০), শিউলি (২৭), দেবাশীষ (৪৩), ডলি (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (১১), সুফিয়ান (৩৯), মমতাজ (৫৫) ও রাহুল (৯)। তাঁরা সবাই সাদুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কয়েকজন মুদি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি শিয়াল পাশের ধানক্ষেত থেকে ছুটে এসে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং একে একে কয়েকজনকে কামড় দেয়। শিয়ালটিকে থামাতে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কয়েকজন আক্রান্ত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভির হাসনাত রবিন বলেন, রাত ১০টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে জরুরি বিভাগে আসেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে রাজা পালানোর ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে নয়, বরং প্রিজন ভ্যানের তালা খুলে দেওয়ার পর একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পুলিশের এসআই (এবি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা। এ ঘটনায় পলাতক পিচ্চি রাজা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
সোমবার(৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতীবাজারে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়।
পুলিশের দাবি, ওই সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে চাবি নেন। পরে হাজতি পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রবীর কুমার নিজেই ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে বের করে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে তুলে দেন।
পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি ভিন্ন বর্ণনা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক পিচ্চি রাজা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানাধীন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী হাফিজিয়া দারুল কোরআন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সাইনবোর্ড উপড়ে ফেলে জমি দখলের অপচেষ্টা ও সরকারি মোতাওয়াল্লীকে প্রাণনাশের হুমকির মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সরকারি মোতাওয়াল্লী জালার আহমদ (৮৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩:০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কাটাখালী এলাকায় অবস্থিত ‘কাটাখালী হাফিজিয়া দারুল কোরআন মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেট’-এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রতিষ্ঠানটির মূল সাইনবোর্ডটি উপড়ে নিয়ে যায় বিবাদীরা। পরদিন সকাল ১০:০০ ঘটিকার সময় মোতাওয়াল্লী জালাল আহমদ গিয়ে সাইনবোর্ড দেখতে না পেয়ে বিবাদীদের কাছে ফেরত চাইতে গেলে, বিবাদীরা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে উল্লিখিত বিবাদীরা হলেন— ১. ছৈয়দ আমিন (৮৮), ২. রশিদ আমিন (৪৫), ৩. নুরুল আমিন (৫৫), ৪. মোঃ আমিন (৫০) ও ৫. রুমান (২২)। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা ধারালো দা, কিরিছ, লোহার রড ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদরাসার সামনে এসে মোতাওয়াল্লীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাকে প্রকাশ্যে হত্যার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
ভুক্তভোগী জালাল আহমদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত মাদরাসা ও ওয়াকফ এস্টেটের সরকারি মোতাওয়াল্লী হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে অভিযুক্ত বিবাদীরা পরধনলোভী ও ভূমিদস্যু প্রকৃতির হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ওয়াকফ এস্টেটের জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে এবং তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
তিনি আরও জানান, বিবাদীরা ক্ষমতা ও পেশিশক্তির জোরে প্রতিষ্ঠানের জমি অবৈধভাবে দখলের উদ্দেশ্যে বারবার হামলা চালিয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুনরায় হামলার শিকার হতে পারেন—এমন আশঙ্কায় স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গের সাথে পরামর্শ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও ওয়াকফ এস্টেটের জমি দখলচেষ্টা এবং বয়োবৃদ্ধ সরকারি মোতাওয়াল্লীকে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিষ্ঠানটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।