করব মোরা ফল চাষ,সংরক্ষণ করব বারো মাস এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলিতে জাতীয় ফল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে এই ফল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।জাতীয় ফল মেলায় হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা, হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন সহ আরো অনেকে।আলোচনা সভায় বক্তারা দেশীয় ফলের গুণাবলি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা করেন। ফল মেলায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফল দিয়ে স্টল সাজানো হয়। মেলাতে হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চাঞ্চল্যকর হত্যাচেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানি মামলার প্রধান ও ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি আরাফাত (৩৫)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৫।
গতকাল (বা সাম্প্রতিক তারিখ দিতে পারেন) চকরিয়া থানাধীন ডুলাহাজারা বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আরাফাত চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বালুরচর ষোলহিস্যা এলাকার সেলিম উল্লাহর ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, অপরাধী দমন, মাদক উদ্ধার ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, কক্সবাজার এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ডুলাহাজারা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় নারী শ্লীলতাহানি ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান পলাতক আসামি আরাফাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন র্যাব সদস্যরা।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এলাকার চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে।
কক্সবাজারের টেকনাফে একটি সফল অভিযান চালিয়ে মাদক মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ১২:১৫ মিনিটে টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের ০৯ নং ওয়ার্ডের দমদমিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির নাম খোরশেদ আলম (২৫)। তিনি টেকনাফ থানার হ্নীলা ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের ছোট লেচুয়াপ্রাং এলাকার মোঃ সালাম ও মৃত সুফিয়া খাতুনের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত খোরশেদ আলম টেকনাফ থানার একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জিআর সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৫, সিপিসি-১, টেকনাফ ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল দমদমিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা, মাদক উদ্ধার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব সদা তৎপর ভূমিকা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলার টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এমন কঠোর চিরুনি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশন থেকে মিয়ানমারে পাচারকালে ৩ বস্তা সার ও একটি মিনি টমটম জব্দ করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টার দিকে উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট রেজাউল করিম রেজার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সহায়তায় এগুলো আটক হয়। পরে জব্দকৃত সার ও টমটম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, সার পাচারের খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরানের নেতৃত্বে পালংখালী স্টেশনের তিনটি সারের ডিলারের গুদামে বিশেষ পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালিত হয়।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরানের সাংবাদিকদের জানান, “আমরা খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পালংখালী বাজারের ডিলার পয়েন্টগুলো পরিদর্শনে আসি। সবগুলো ডিলারে খতিয়ে দেখার পর কিছু অনিয়ম ও গরমিল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘ইব্রাহিমের ডিলার’-এ দৈনিক রেজিস্টার খাতা হালনাগাদ লেখা ছিল না, তবে গতকালকের সারের বরাদ্দ ঠিক পাওয়া গেছে। এরপর ‘আব্দুর রহিমের ডিলার’ পরিদর্শনে দেখা যায়, তিনি গত দুই মাস কোনো বরাদ্দ পাননি, তবে সেখানেও দৈনিক রেজিস্টার খাতা মেইনটেইন করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সর্বশেষ ‘সেলিম ডিলার’ পরিদর্শন করে দেখা যায়, সেখানে সব ঠিকঠাক থাকলেও গত ২ বছরের হিসাব অনুযায়ী ২৪ বস্তা সার কম পাওয়া গেছে। আমরা সামগ্রিক বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া এই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহেরের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযান ও সার জব্দের বিষয়ে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট রেজাউল করিম রেজা বলেন: “আমি বেশ কয়েকদিন ধরে শুনতেছিলাম যে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে হাজার হাজার বস্তা সার পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের স্থানীয় সাধারণ কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে গতকাল আমি আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর সাথে বিস্তারিত আলোচনা করি। তাঁরই নির্দেশক্রমে আজ সকালে আমরা পালংখালী স্টেশনে অবস্থান নিই। সকাল ৯টার দিকে সীমান্ত অভিমুখে যাওয়ার সময় একটি মিনি টমটম তল্লাশি করে ৩ বস্তা সারসহ হাতেনাতে আটক করি এবং পরে তা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করি। জনসাধারণের স্বার্থে আমাদের এই সর্তক অবস্থান ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
আজ সকালের এই তৎপরতা ও পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন মেম্বার, পালংখালী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাহ আলম, উপজেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আশেক ইলাহি রুবেল এবং উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছৈয়দ নুরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনতা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের সাথে জড়িত সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।