চকরিয়ায় বন্যাদুর্গত ১৫০০ পরিবারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ; ৭০০ জনকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা
সাম্প্রতিককালের চরম বৈরী আবহাওয়া ও টানা অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা। চকরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি ও চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। এই অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ ও কঠিন পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০০টি অসহায় ও সম্বলহীন পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক সহায়তা দুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) চকরিয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক বিশেষ মানবিক অনুষ্ঠানে বন্যাকবলিত ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব অসহায় পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জীবনরক্ষাকারী ত্রাণসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুর্গতদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ত্রাণ পেয়ে বন্যাদুর্গত সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত এলাকার সাধারণ মানুষের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় বিজিবির পক্ষ থেকে এক বিশেষ স্বাস্থ্যসেবামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিজিবির একটি সুসজ্জিত ও দক্ষ মেডিকেল টিমের মাধ্যমে দিনব্যাপী প্রায় ৭০০ জন অত্যন্ত অসহায়, দুস্থ ও বন্যাদুর্গত মানুষকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। দুর্যোগের এই সময়ে বিজিবির ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণকালে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও দেশের সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় দুর্গত ও বিপন্ন মানুষের পাশে রয়েছে। বন্যার এই কঠিন ও সংকটময় সময়ে বিজিবির এই মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ সত্যিই অতুলনীয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসন করা এবং তাঁদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।”
উক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সম্মানিত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। এছাড়াও চকরিয়ার এই ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) ও রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধিনায়কসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। একই সাথে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক সমন্বয়ে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যার পানি ক্রমান্বয়ে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় বিজিবির এই অনন্য ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ১৫০০ পরিবারকে খাদ্য ও ৭০০ জনকে চিকিৎসাসেবা প্রদানের এই মানবিক উদ্যোগ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।









