উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে পাচারের সময় বিপুল সার ও তেলসহ আটক ১
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার এবং সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৬৪ বিজিবি)। এই অভিযান পরিচালনাকালে সীমান্ত এলাকা থেকে পাচার চক্রের সাথে জড়িত সাইফুল ইসলাম (২৭) নামের এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এই ত্বরিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত পারাপারের একটি বড় চোরাচালান চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
সীমান্তবর্তী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীনস্থ পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আনজুমান পাড়ার বালুখালী খাল সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখানে বিজিবির আভিযানিক দল গোপন তথ্যের সততা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়। বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আটককৃত সাইফুল ইসলাম কক্সবাজার সদর থানার ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা সব্বির আহম্মেদের ছেলে।
অভিযানের বিশদ বিবরণ দিয়ে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে আগে থেকেই আনজুমান পাড়া বালুখালী খালের পাড়ে ওৎ পেতে বসে ছিল বিজিবির বিশেষ টহল দলটি। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটের দিকে খালের পানির তীব্র স্রোত ও প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে কায়দা করে মালামালগুলো মিয়ানমার সীমান্ত অভিমুখে ভাসিয়ে পাচার করার চেষ্টা চালানো হয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই উপস্থিত বিজিবি সদস্যরা পাচারকারী সাইফুলকে থামার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। তবে বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি অনুধাবন করে অভিযুক্ত ব্যক্তি দ্রুত চম্পট দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে বিজিবি জোয়ানরা ধাওয়া করে তাকে ঘটনাস্থল থেকেই ধরে ফেলতে সমর্থ হন। গ্রেফতারের পর উক্ত স্থানে নিবিড় তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ৬০০ কেজি ইউরিয়া সার এবং ১০ লিটার সয়াবিন তেল সফলভাবে জব্দ করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম এই সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে সার, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বাংলাদেশী পণ্যের অবৈধ পাচার রুখে দিতে বিজিবির কঠোর ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ জনগণকে চোরাচালানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
লেঃ কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম আরও আশ্বস্ত করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত পাহারার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সার পাচার প্রতিরোধে বিজিবির এই কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত অঞ্চলে যেকোনো ধরনের চোরাচালান ও অবৈধ তৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে তিনি স্থানীয় সকল বাসিন্দাদের সার্বিক ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
দেশীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভিনদেশে পাচার হওয়া জাতীয় অর্থনীতির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিজিবির এই নিয়মিত ও সাড়াশী অভিযানের মাধ্যমে চোরাচালান চক্রের অপতৎপরতা রুদ্ধ করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী।






