হিলিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস

প্রতিবেদক: নুরুজ্জামান হোসেন, হিলি (দিনাজপুর) প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
হিলিতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বিজিবির সেক্টর কমান্ডার: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার আশ্বাস
৩৩

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলিতে পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি এবং পূজামণ্ডপসমূহে নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে হিলি সীমান্ত জনপদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পূজামণ্ডপে এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়ন, রংপুরের সুযোগ্য ভারপ্রাপ্ত রিজিয়ন কমান্ডার এবং একই সঙ্গে দিনাজপুর সেক্টরের সম্মানিত সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান (বিজিবিএম, পিবিজিএম, পিএসসি) স্বয়ং এই পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান করেন। তিনি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ আওতাধীন বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) এলাকার সুপরিচিত ‘হরিজন সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ’-এ সশরীরে উপস্থিত হন। সেখানে পৌঁছে তিনি মণ্ডপের চারপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং পূজার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য গৃহীত বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপসমূহ অত্যন্ত সুচারুভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিবিড় তদারকি করেন।

পরিদর্শনকালে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান মণ্ডপে উপস্থিত পূজা উদযাপন কমিটির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সেখানে সমবেত সনাতন ধর্মাবলম্বী পুণ্যার্থীদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে তাদের সাথে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি উপস্থিত ভক্তদের ও আয়োজকদের সম্পূর্ণরূপে আশ্বস্ত করে দৃঢ়তার সাথে জানান যে, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে উদযাপিত হতে পারে, সেজন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।

শারদীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মতো সীমান্ত এলাকাতেও উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তবে উৎসবের এই আনন্দঘন পরিবেশে যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদস্যদের এই নিবিড় তদারকি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত হয়ে মণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার বিষয়টি স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও গভীর আস্থার সঞ্চার করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার ক্ষেত্রে বিজিবির এই দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন এই কমান্ডারের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারাও তাঁর সাথে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে অংশ নেন। এ সময় জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)-এর সম্মানিত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী (পিবিজিএমএস, পদাতিক) এবং একই ব্যাটালিয়নের সুযোগ্য উপ-অধিনায়ক মেজর ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ আসাদ (পদাতিক) উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও মণ্ডপের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন। হিলির সীমান্ত অঞ্চলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এই পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার সুস্পষ্ট আশ্বাস উৎসবের আনন্দকে আরও দ্বিগুণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন সতর্ক ও দায়িত্বশীল উপস্থিতির ফলে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃঢ় প্রত্যাশা।

Download Photocard

Polls

আজকের প্রশ্ন

আপনি বাংলা নিউজ টিভির পেইজে লাইক ফলো দিয়েছেন কি?

View Results

Loading ... Loading ...